কক্সবাজারে মানব পাচার ও সুরক্ষা বিষয়ক ঝুঁকি পরামর্শ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
নুরুল আমিন হেলালী, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ জেলা পর্যটন নগরী কক্সবাজারে মানব পাচার এবং সুরক্ষা বিষয়ক ঝুঁকি পরামর্শ ও শিক্ষণীয় পর্যালোচনা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫শে এপ্রিল) কক্সবাজারের স্থানীয় একটি অভিজাত হোটেলে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে ‘মানব পাচার এবং সুরক্ষা বিষয়ক ঝুঁকি পরামর্শ ও শিক্ষণীয় পর্যালোচনা শীর্ষক কর্মশালায় বিশিষ্টজনরা বিভিন্ন অভিমত ব্যক্ত করেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মানবিক সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (এইচসিএমপি) উদ্যোগে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।মানব পাচার প্রতিরোধে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সমন্বিত ও জোরালো কার্যক্রম জরুরি। ব্র্যাক আয়োজিত কর্মশালায় বিশিষ্টজনরা
মানব পাচার প্রতিরোধ, সুরক্ষা ও বিচার ব্যবস্থায় একাধিক সংস্থা কাজ করা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানব পাচার প্রতিরোধ বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে। মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিরা আইনি কার্যক্রমেও বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হন।
সাক্ষ্যপ্রমাণ ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতি, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানব পাচারের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণতা, পুলিশের অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে সেবা প্রদানে সমস্যা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বার বার বদলি, থানায় রোহিঙ্গা সংক্রান্ত মামলা নিবন্ধনে চ্যালেঞ্জ, গুরুতর অপরাধগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে মীমাংসা করা ইত্যাদি এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এই পরিস্থিতিতে মানব পাচার প্রতিরোধে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সমন্বিত ও কার্যক্রম জোরালো করা জরুরি।
মানব পাচার প্রতিরোধে বিচার বিভাগের সদস্য, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ক্যাম্প-পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে এবং এই সংক্রান্ত সুপারিশসমূহ তুলে ধরতে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের মানবিক সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি’র (এইচসিএমপি) সহযোগী পরিচালক ও অফিস ইন চার্জ (ওআইসি) রেজাউল করিম।
কর্মশালায় জানানো হয়, মানব পাচার বিরোধী ওয়ার্কিং গ্রুপের (এটিডব্লিউজি) ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাচার হওয়া ভুক্তভোগীদের ৩৩ শতাংশ নারী ও মেয়ে এবং ২৫ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এছাড়া ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তির সংখ্যা ২৮.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পাচার হওয়া ভুক্তভোগীদের সহায়তা নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, এনজিও এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত কর্তৃপক্ষের মধ্যে আরও শক্তিশালী ও সহযোগিতাভিত্তিক সমন্বিত কার্যক্রম জোরালো করা জরুরি বলেও বক্তারা মতামত পেশ করেন।
ক্যাম্পে অবস্থানরত নারী ও শিশু সুরক্ষার ঝুঁকি বিবেচনা করে ব্র্যাকের এইচসিএমপির প্রটেকশান সেক্টর মানব পাচারের শিকার ভূক্তভোগীদের হোস্ট ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্য়ন্ত ৭৮৪ জনকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হিউম্যানেটেরিয়ান ডেভলপমেন্ট কোএক্সিটেন্স (এইচডিসি-HDC) প্রকল্পের আওতায় মানব পাচার রোধে এই পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৮ টি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিক্ষক, ভলানটিয়ার, ইমামসহ মোট ৪০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
কর্মশালায় মানব পাচারের প্রেক্ষাপট ও এর আইনি কাঠামো বিষয়ক উপস্থাপনা তুলে ধরেন ব্র্যাকের প্রটেকশান সেক্টরের সমন্বয়ক মো. তানভির ইসলাম।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাসমূহ নিয়ে উপস্থাপনা তুলে ধরেন কক্সবাজার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি, Forcibly Displaced Myanmar Nationals) ফখরুল হাসান। আরও উপস্থিত ছিলেন, ক্যাম্প-ইন- চার্জ (ক্যাম্প ১৭) তাপ্তি চাক্মা, আইওএম এর কাউন্টার ট্রাফিকিং এসিট্যান্ট সেলিম বাদশা ও ইউএনএইচসিআর এর প্রতিনিধি।
মানব পাচার বিষয়ে বিচার বিভাগের কার্যপ্রণালী ও আইনি বিধি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করেন কক্সবাজার জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর জ্যেষ্ঠ জেলা বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সিদ্দিক ।
কর্মশালা সঞ্চালনা করেন ব্র্যাকের এইচসিএমপির আওতাধীন প্রটেকশান সেক্টরের নলেজ ম্যানেজমেন্ট এর ম্যানেজার মোহাইমিনুল ইসলাম ও একই সংস্থার লিগ্যাল ম্যানেজার নাজিয়াত ইসলাম।
অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ক্যাম্প-ইন-চার্জ (২৪, ২৫ ও ২৭) খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান, ক্যাম্প ইনচার্জ (২৬ নম্বর) মো. আব্দুল হান্নান, ব্র্যাকের এইচসিএমপি কর্মসূচির উপদেষ্টা সুব্রত কুমার চক্রবর্তী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।









