অবশেষে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন ডন
ডেস্ক রিপোর্ট:
চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় ছিলেন নব্বইয়ের দশকে সালমান শাহ-র সঙ্গে কাজ করে শৈশবীয় তারকা হিসেবে। কিন্তু সালমান শাহর মৃত্যুর পর একটি দীর্ঘ বিতর্ক ও অভিযোগ-ভাণ্ডার জমে ওঠে, যেখানে ডন নামের এই অভিনেতার ভূমিকা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সে নিজেও জানিয়েছেন, “৩০ বছর ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছি না, এখন বাসায়ই আছি; দু-এক দিনের মধ্যেই পুলিশের কাছে গিয়েই সব জানাব।”
সালমান শাহর মৃত্যুর মামলায় গত ২০ অক্টোবর মামলা দায়ের করা হয় উক্ত অভিনেতা সহ একাধিক চলচ্চিত্র-ব্যক্তিত্বকে। এরপর গত ২৭ অক্টোবর আদালত ডন ও সালমান শাহর সাবেক স্ত্রীকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
মামলার সঙ্গে নিজ কথা বলেছেন ডন — জীবনের এই যন্ত্রণার অবসান চান, পালিয়ে থাকার কোনো যুক্তি নেই বলছেন, এখন সুরাহা চাইছেন
ঢাকার সিনেমাপ্রেমী ও বিনোদন জগতের জন্য দীর্ঘদিন অমীমাংসিত ছিল সালমান শাহ-র মৃত্যু রহস্য। ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ তারিখে তিনি রহস্যজনকভাবে জীব Bowman প্রশাসনের নিবাসে মারা যান।
বিগত প্রায় তিন দশক সময় ধরে ‘আত্মহত্যা’ কিংবা ‘পরিকল্পিত হত্যার শিকার’—এই দুই সম্ভাবনায় আলোচনায় ছিল ঘটনা।
২০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে আদালতের নির্দেশে উক্ত ঘটনা নিয়ে হত্যা মামলা (ধারা ৩০২ ও ৩৪ অনুযায়ী) রামনা থানা পুলিশের কাছে গৃহীত হয়।
মামলায় যারা অভিযুক্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছে: সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, আর ওই সময়কার জনপ্রিয় খলনায়ক ডন, প্রযোজক, অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ মোট ১১ জন।
২৭ অক্টোবর আদালত দু’জনের (সামিরা ও ডন) বিদেশগমনে নিষেধাজ্ঞাাজারি করে, যাতে তারা দেশের বাইরে পালিয়ে না যেতে পারেন।
অন্যদিকে, ডন গণমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন —
> “৩০ বছর ধরে যন্ত্রণা ভোগ করছি। বাসাতেই আছি… পালাব লাগলেই পালাতাম হয়তো, কিন্তু বাসাতেই আছি… এখন সময় এসেছে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার।”
[উক্তি ব্যবহারযোগ্য হলে সরাসরি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকাশ করা যেতে পারে]
তিনি এটাও বলেন, তিনি সালমান শাহকে ভালোবেসে কাজ করেছিলেন, কিন্তু তারপর থেকে তার ক্যারিয়ার বাঁধায় পড়েছে।
ডন দাবি করেছেন, ভালোবাসাটিকেই হয়তো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জন্য।
এই আবেদনে সামাজিক ও মনোবিজ্ঞানের দিক থেকেও বিষয়টি গুরুতর: একজন মানুষ দীর্ঘকাল কোনো ধরনের উত্তেজনা, সঙ্কট ও আত্মপরিচয়ের সংকটে থাকলে তার মানসিক ও সামাজিক প্রভাব অপরিহার্য।
বর্তমানে মামলার আনুষ্ঠানিক ধাপগুলো হচ্ছে: আদালত নির্দেশ দিয়েছে রামনা থানার অফিসার-ইন-চার্জকে “প্রাকৃতিক মৃত্যু” থেকে “হত্যা” হিসেবে মামলা রূপান্তর করতে এবং প্রতিবেদন দাখিল করতে।
যদিও অতীতে এই মামলায় বিভিন্ন তদন্ত হয়েছে—CID, বিচারিক তদন্ত, প্রতিবেদনের ধাপ নিয়েছে—but স্পষ্ট সমাধান এখনও হয়নি।
এবার এই অভিনেতার আত্মসমর্পণ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিনোদন সিনেমাপ্রেমী-সাধারণ উভয়েরই দৃষ্টি আবার কাড়ছে। তার ভাষ্যে, “সত্য একদিন প্রকাশ হবেই… আমি হয়তো সে দিন টা দেখে যেতে পারব কিনা জানি না।”
এই সিদ্ধান্ত যদি কার্যকর হয়, তাহলে নিষ্পাতিত মামলা প্রেক্ষাপটে নতুন তথ্য-উপাত্ত উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিনেমা-জগত ও সাধারণ মানুষের জন্য এটি শুধু এক শিল্পীর ব্যক্তিগত বিব্রত বা সংকট নয়— এটি একটি সময়ের ছাপ, মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, এবং শিল্প-মানবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত সামাজিক আলোচনা।
যদিও এখনও মামলার বিচারিক ধাপ এগোচ্ছে, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে এটি হয়তো “বিচার ও উত্তরের সন্ধান” হিসেবে পরিগণিত হবে।









