সংসার ছেড়েছে মা শিশু আরিয়ানের জীবন লন্ড ভন্ড

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
সংসার ছেড়েছে মা শিশু আরিয়ানের জীবন লন্ড ভন্ড

মালিকুজ্জামান কাকা :

ডাক নাম আরিয়ান। ভালো নাম তাহমিদ জামান। বয়স মাত্র ১০ বছর। পুলেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র। যশোর শহরের ৫নং চোরমারা দীঘির পাড় ওর বাড়ি। কিন্তু এই বয়সেই তাকে জীবন সংগ্রামে নামতে হয়েছে। খাওয়া নাওয়া কোনটাই ঠিক টাইমে হচ্ছে না। সব থাকতেও যেন তার কিছু নেই।

আরিয়ানের মা থেকেও এখন নেই। কেউ জানে না মা কোথায়। সংসার ফেলে রেখে ওর মা লোকের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ছাড়া হয়েছে। কোন অজানায় তিনি আছেন তা আরিয়ান যেমন জানেনা, তার পিতা আশরাফজ্জুমান ও জানেনা। 

সাত মাস আগে একবার বাড়ি ছেড়ে যায় আরিয়ানের মা শাহানাজ বেগম। এক মাস আগে আবার তিনি রাতের আঁধারে অতি গোপনে তিনি মেয়ে খাদিজা জামান অনিকা কে নিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। পিতার সাথে খুঁজে খুঁজে শিশু আরিয়ানও এখন হয়রান। এমন কোন আত্মীয় নেই যে বাড়ি খুঁজতে ওরা বাকি রেখেছে। অথচ সংসারে কোন কিছুরই অভাব নেই। 

শিশু আরিয়ান জানায় তাকে পিতার সাথে সাথে থাকতে হচ্ছে। তিনি কাজের লোক। দেশের বিভিন্ন স্থানে তার ঠিকাদারি সাব ঠিকাদারি কাজ। কিন্ত ছেলেকে একা বাড়ি রেখে যাওয়ার কোন উপায় নেই। 

স্থানীয়রা জানায় আরিয়ানের খালু যশোর সদর উপজেলার নাসির উদ্দীন মোড়ল আরিয়ানের মা কে কোথায় জেনো লুকিয়ে রেখেছে। এতে তার বউ মমতাজও জড়িত। এমনকি মমতাজের ফুফাতো বোন মুসলিমা বেগম ও আমেনা বেগমও মুখে কুলুপ এঁটেছে। মুসলিমার স্বামী হান্নান প্রফেসর তিনিও কিছু না বলে বৌ এর পক্ষে সংসার ভাঙতে অপ তৎপরতা চালাচ্ছেন। 

স্বামীর শহরের বাড়ি বিক্রি করে দিতে চাপ দিচ্ছিলো আরিয়ানের মা শাহানাজ বেগম। তা না করাতে তিনি সংসার ছেড়ে চলে গেছেন।

আরিয়ানের পিতা আশরাফুজ্জামান বলেন, ২৭ বছরের সংসার। এক মুহূর্তেই ভেঙে খান খান। লোভের বশবর্তী হয়ে, অন্যের কান ভাঙানি শুনে আরিয়ানের মা চলে গেছে। মেয়ে ও মা নেই। ছেলের লেখাপড়া বন্ধ। সংসার এখন থমকে গেছে। নিজেরা রান্না করে, হোটেলে খেয়ে দিন কাঁটাতে হচ্ছে। তাদের সংসার এখন চলছে ভবিষ্যতহীন। খাদিজা জামান আনিকা ও আরিয়ানের লেখাপড়া বন্ধ হয়েছে। সংসার স্থবির। যাকে বলে লন্ড ভন্ড দশা। 

সমাজপতিরা বলছেন, বাংলার প্রায় গ্রাম মহল্লায় এখন গৃহবধূরা কান ভাঙানি শুনে সংসার ছাড়ছে। এতে ছেলে মেয়ে আর পরিবারের উজ্জ্বল ভবিষ্যত বিনষ্ট হচ্ছে। দেখার কেউ নেই। এসব নারী ও তাদের কু পরামর্শদাতাদের বিচার হওয়া উচিৎ। কিন্তু তেমন আইন আছে কিনা তা যেমন আসরাফুজ্জামান জানেনা, তেমনি শিশু আরিয়ান তার কিছুই ভাল মন্দ সংসার বোঝার বয়স এখন হয়নি। হায়রে শিশু আরিয়ান। শুরুতেই তার লেখাপড়ায় এখন চরম অশনী সংকেত। হয়তো ঝরে গেল আর এক শিশু শিক্ষার্থী। করুণ দশায় বটে।