ভূমি সেবায় হটলাইন চালু,স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত হবে,জনমনে প্রশ্ন
সউদ আব্দুল্লাহ, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘদিনের হয়রানি, দালালচক্রের প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালু করেছে প্রশাসন। তবে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত হবে—তা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে সংশয় ও প্রশ্ন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় কালাই উপজেলা ভূমি অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা জানান, ভূমি সেবায় অনিয়ম, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হলে ভুক্তভোগীরা এখন সরাসরি নির্ধারিত নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারবেন। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে চালু করা হটলাইন নম্বর +৮৮০ ১৭০৬-৮৮৮৭৮৭-এ ছবি, ভিডিও বা স্ক্যান কপি পাঠিয়ে অভিযোগ করা যাবে। পাশাপাশি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), জয়পুরহাটের কার্যালয় থেকেও +৮৮০ ১৭৭৫-৩৪৩১১১ নম্বর চালু রয়েছে।
ইউএনও শামীম আরা বলেন, ভূমি সেবা মানুষের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। কিন্তু নানা জটিলতা ও অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষকে প্রায়ই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ হটলাইন চালুর মাধ্যমে মানুষ যেন নির্ভয়ে অভিযোগ করতে পারে এবং দ্রুত প্রতিকার পায়,সেটিই আমাদের লক্ষ্য।তিনি আরও জানান, অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন চিত্রও তুলে ধরছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসে নামজারি,খতিয়ান সংশোধন, জমির পর্চা সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবায় দালালচক্রের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগা,অযৌক্তিক খরচ দাবি, কিংবা বারবার ঘুরতে বাধ্য করার মতো অভিযোগও রয়েছে। ফলে হটলাইন চালু হলেও এসব সমস্যা কতটা কমবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না....
কালাই উপজেলার কৃষক আব্দুল আলাউদ্দিন বলেন, আমরা বহুদিন ধরে ভূমি অফিসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। এখন হটলাইন চালু হয়েছে, এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু অভিযোগ দিলে সত্যিই কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।
একই ধরনের মন্তব্য করেন গৃহিণী রহিমা বেগম। তিনি বলেন, অনেক সময় ছোট কাজের জন্যও বারবার অফিসে যেতে হয়। কেউ ঠিকমতো সহযোগিতা করে না। এখন যদি অভিযোগ করেও ফল না পাওয়া যায়, তাহলে মানুষ আবার আগের মতোই নিরুৎসাহিত হবে।
স্থানীয় শিক্ষক মাহবুবুর রহমান মনে করেন, এই উদ্যোগ সফল করতে হলে দৃশ্যমান পদক্ষেপ জরুরি। তিনি বলেন, শুধু নম্বর চালু করলেই হবে না, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত ও শাস্তির নজির তৈরি করতে হবে। তা না হলে মানুষের আস্থা তৈরি হবে না।
এদিকে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ইতোমধ্যে ভূমি সেবাকে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে নামজারি আবেদন, খতিয়ান যাচাইসহ বিভিন্ন সেবা চালু থাকলেও অনেকেই এখনো এসব সেবার পুরো সুবিধা পাচ্ছেন না। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, সচেতনতার অভাব এবং দালালদের প্রভাব এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিপুল কুমার জানান, হটলাইনে পাওয়া অভিযোগগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হবে এবং গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর ওপর তদারকি বাড়ানো হবে।
তবে সচেতন মহল বলছে, অভিযোগ ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগই নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত মূল্যায়নও জরুরি। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে স্বচ্ছতা আরও বাড়বে।








