ঈদগাঁওর অলিগলিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার
নাছির নোমান, ঈদগাঁও প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাহ বাজারের অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বে-সরকারি হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টার। ঐসব অনুমোদনহীন হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টার নামে মাত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনুমোদনের আবেদন করেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে চলছে বছরের পর বছর। এসমস্ত প্রতিষ্ঠান গুলোতে হচ্ছে জটিল ও কঠিন অস্ত্রোপচার। একদিকে যেমন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রতারিত হচ্ছে অপর দিকে তেমনি ভুল চিকিৎসায় ঘটছে রোগীর মৃত্যুও।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়,
দক্ষিণ-চট্টগ্রামের বৃহত্তম বাণিজ্যিক এলাকা ঈদগাঁও বাজারের অলিগলিতে ও তার আশপাশে বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ১৭টি বে-সরকারী হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তান্মমধ্যে ৩টি হাসপাতাল ১টি ল্যাবের অনুমোদন পেলেও বাকিগুলো পেয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের আশীর্বাদ। অনুমোদনপ্রাপ্ত ৩টি হাসপাতাল হচ্ছে , ঈদগাহ মডেল হাসপাতাল, ঈদগাহ মেডিকেল এন্ড হাসপাতাল , ঈদগাঁও আধুনিক হাসপাতাল অপরটি বাস স্টেশনের পপুলার ল্যাব। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদন পেলেও তারা মানছে না স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া কোন নিয়ম নীতি। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সি ক্যাটাগরির লাইসেন্স প্রাপ্ত হাসপাতাল চলছে বি ক্যাটাগরিতে। এসব হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার গুলো মানছে না স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া নিয়মনীতি। অপারশন থিয়েটার গুলোতে নেই পোস্ট-অপারেটিভ রিকভারি রুমসহ আধুনিক সরঞ্জাম: উন্নত অপারেশন টেবিল, ওভারহেড শল্যচিকিৎসার আলো, অ্যানেস্থেশিয়া মেশিন, মনিটর ও ভেন্টিলেটরসহ আধুনিক সুযোগ সুবিধা । এ সমস্ত অপারেশন থিয়েটার গুলোতে নেই কোনো দক্ষ বিষেজ্ঞ সার্জন। অপারেশনের সময় রোগীকে অচেতন বা অবশ করে ব্যথামুক্ত রাখার জন্য নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনেস্থেসিওলজিস্ট। বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা নেই ডিপ্লোমাধারী নার্স। ল্যাব ও এক্স-রে বিভাগে নেই সরকার অনুমোদিত কোনো ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি কোর্স সম্পন্ন করা টেকনোলজিস্ট বা টেকনিশিয়ান। এক্স-রে মেশিনগুলোতে নেই বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ( BAERA) থেকে অনুমোদন ও লাইসেন্স। এছাড়াও এক্স-রে রুমগুলোতে রয়েছে চরম রেডিয়েশন ঝুঁকি। কারণ দরজা ও জানালাতে ২ মিলি সীসার প্লেট ও রুমের দেয়ালগুলো ১০ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনি ব্যবহার করে নাই।
অন্যদিকে মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ইকো কার্ডিওগ্রাফি (ইসিজি ) এর জন্য নেই কার্ডিওগ্রাফার। অথচ এমন সংবেদনশীল পরিক্ষাগুলো হাসপাতাল বা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের আয়া,ক্লিনার ওয়ার্ডবয় দিয়ে করা হচ্ছে। এতোই অসঙ্গতি দেখেও না দেখার বান করে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং সিভিল সার্জন পাচ্ছে অনৈতিক মোটা আংকের মাসিক সুবিধা। অপরদিকে অনুমোদিত পপুলার ল্যাবে নেই কোন সরকারী বা বেসরকারি মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা ল্যাব টেকনোলজিষ্ট। অপরদিকে কোন অনুমোদন ছাড়া বছরের পর বছর চলে আসছে ১৩টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে রয়েছে বাস স্টেশনস্থ আল হেরামাইন হাসপাতাল, ঈদগাহ সেবা ডায়গনস্টিক সেন্টার, আল মদিনা ডক্টরস এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ছাগল বাজারের মীম এক্স-রে সেন্টার, নাবিল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জম জম হাসপাতাল সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ,দিপু প্যাথলজী সেন্টার নিউরন মেডিকেল সেন্টার ,আল শেফা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিউরোসেন্স হাসপাতাল ডাঃ রেহানা নোমান কাজলের পরিচালিত পেইস ল্যাব। ঐসব অনুমোদনহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে না , নিচ্ছে শুধু মাসিক মাসোহার। এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাক্তার মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আলমগীর এর সাথে কথা হলে তিনি জানান বিষয়টি আমার নজরে আসছে। অবৈধ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চিঠি ইস্যু করেছি।শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে ঈদগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মইনুদ্দিন মোর্শেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন ধরনের সৎ উত্তর দিতে পারে নাই জি জি-তেই তার বক্তব্য শেষ।এদিকে ভেজাল মুক্ত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরনে সংশ্লিপ্ত প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।









