‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ এখনও শাহজালাল বিমানবন্দরেই

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ পিএম
‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ এখনও শাহজালাল বিমানবন্দরেই

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়ম দেখলেই তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে একসময় ব্যাপক আলোচনায় আসেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান। যাত্রী হয়রানি, লাগেজ চুরি ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ নামে। অনেকে তাকে ‘ফাটাকেষ্ট’ বলেও অভিহিত করতেন।


তবে বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে আগের মতো সক্রিয় দেখা না যাওয়ায় তার বদলি নিয়ে নানা আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক ও ইউটিউবে অনেকে দাবি করেন, নওশাদ খানকে বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই।


নওশাদ খান জানিয়েছেন, তিনি এখনও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন। গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি বিমানবন্দরে আছেন এবং সম্প্রতি লাগেজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কাজও করেছেন।


নওশাদ খান ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন শুরু করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দ্রুতই আলোচনায় আসেন তিনি। তার অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।


বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও লাগেজ নিয়ে অভিযোগ কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগেও ভূমিকা রাখেন তিনি। লাগেজ হ্যান্ডলিং ও রিলিজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বডি ক্যামেরার আওতায় আনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।


এসব কারণে যাত্রী ও প্রবাসীদের মধ্যে নওশাদ খানকে নিয়ে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। বিমানবন্দরে কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পুরোনো অভিযানের ভিডিও সামনে আসত।


সম্প্রতি বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি সরবরাহ নিয়ে উত্তেজনার ঘটনা নতুন করে বিমানবন্দরের সেবাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। ওই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে নওশাদ খানের পুরোনো অভিযানগুলোর ভিডিও শেয়ার করে তাকে নিয়ে নানা মন্তব্য করেন।


অনেকে প্রশ্ন তোলেন, যাত্রীদের অভিযোগে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সেই কর্মকর্তা এখন কোথায়? কেউ কেউ আবার তাকে বিমানবন্দরে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।


এ বিষয়ে নওশাদ খান বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুব একটা ব্যবহার করেন না। এ কারণে তাকে নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়েছে। তার ভাষ্য, অনলাইনে অনেক কিছুই দেখা যায়, তবে নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়।


তিনি সাধারণ যাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, কোনো অনিয়ম বা ভোগান্তির শিকার হলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে হবে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নওশাদ খানের বর্তমান পদবি সিনিয়র সহকারী সচিব। তবে বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এখনও ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ নামেই বেশি পরিচিত।