৬০০ আলেমের বিবৃতি, ৩৭৭ ধারা কার্যকরের দাবি

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
৬০০ আলেমের বিবৃতি, ৩৭৭ ধারা কার্যকরের দাবি

সূত্রঃ ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক


সমকামী সহিংসতা প্রতিরোধে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম, শতাধিক মাদরাসার মুহতামিমসহ (প্রিন্সিপাল) ৬০০ বিশিষ্ট আলেম।


মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘মূল্যবোধ আন্দোলন’-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেনের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।


বিবৃতিতে বলা হয়, সাভারের একটি মাদরাসায় সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর ওপর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে যৌন নিপীড়নের খবর তারা গভীর উদ্বেগ ও মর্মবেদনার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। তাদের মতে, দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধ নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকেও মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মাদরাসাগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদ রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


আলেমরা দাবি করেন, বিভিন্ন এনজিও ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমকামী আচরণকে স্বাভাবিকীকরণের কার্যক্রম বাড়ছে। একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারার কার্যকর প্রয়োগ না হওয়ায় সামাজিক অবক্ষয় আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।


তারা বলেন, সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো মাদরাসাও সামগ্রিক সামাজিক পরিবেশের প্রভাবের বাইরে নয়। তাই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।


বিবৃতিতে বলা হয়, কোরআন-সুন্নাহর আইন প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ করতে হবে।


আলেমরা আরও দাবি করেন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা ও মেসসহ যেকোনো স্থানে শিশু বা অন্য কারও ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটলে জড়িতদের ৩৭৭ ধারাসহ অন্যান্য প্রযোজ্য আইনে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।


বিশেষ করে সাভারের মাদরাসায় সাত বছর বয়সী শিশুর ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।


বিবৃতিতে ৩৭৭ ধারার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে এ ধরনের আইন প্রণয়ন করা হয় এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৭৭ ধারায় নির্দিষ্ট যৌন আচরণকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিবৃতি প্রদানকারীদের মধ্যে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মাদ আবদুল মালেক, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মোখতার আহমাদ, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাসজিদুত তাকওয়া ধানমন্ডির খতিব মুফতি সাইফুল ইসলামসহ দেশের বিভিন্ন মাদরাসা ও মসজিদের খতিব, মুহতামিম ও বিশিষ্ট আলেমরা রয়েছেন।


বিবৃতিদাতাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ‘মূল্যবোধ ডট কম’ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।