ভাষানটেকে ‘অস্ত্রের তথ্য’, অভিযান চালিয়ে মিলল দুই গ্যাস লাইটার

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:১২ পিএম
ভাষানটেকে ‘অস্ত্রের তথ্য’, অভিযান চালিয়ে মিলল দুই গ্যাস লাইটার

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজধানীর ভাষানটেকের একটি বাসায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে—বিদেশি একটি নম্বর থেকে এমন তথ্য পেয়ে একই সময়ে অভিযান চালায় পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে তল্লাশি শেষে অস্ত্র-গুলি তো দূরের কথা, পাওয়া গেছে শুধু পিস্তলসদৃশ দুটি গ্যাস লাইটার।


ঘটনার পর থেকে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বার্তা পাঠানো ব্যক্তির পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ওই ব্যক্তি কেন একই তথ্য একসঙ্গে তিনটি সংস্থাকে পাঠিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


গত শনিবার দুপুরে +৯১ ৮৭৭৮ ২৭০৯৬ নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে পুলিশ, র‍্যাব ও ডিবির কাছে এসব তথ্য পাঠানো হয়। আমাদের হাতে আসা স্ক্রিনশটে দেখা যায়, বার্তা পাঠানো ব্যক্তি নিজেকে ‘মো. আবদুল্লাহ আল-আমিন শুভ’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলেও দাবি করেন।


বার্তায় ওই ব্যক্তি নিজেকে আগে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন। রাজনৈতিক স্বার্থে অতীতে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার এবং পরে অর্থের লোভে অস্ত্র ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।


তিনটি ঠিকানা ও অস্ত্রের বিস্তারিত তথ্য


হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় ভাষানটেক এলাকার তিনটি ঠিকানা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৬০/বি, ৩-ই উত্তর ভাষানটেকের একটি বাসায় ১৩টি অবৈধ অস্ত্র, ৩০০ রাউন্ড গুলি ও ২৪টি ম্যাগাজিন থাকার দাবি করা হয়।


বার্তায় অস্ত্রগুলোর অবস্থান সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়। বলা হয়, একটি আলমারিতে কাপড়ের নিচে লাল কস্টেপ দিয়ে মোড়ানো আটটি অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও ২০০ রাউন্ড গুলি রয়েছে। একইভাবে আরেকটি কক্ষে পাঁচটি অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও ১০০ রাউন্ড গুলি রাখা আছে বলে দাবি করা হয়।


অভিযানের সুবিধার্থে পরিবারের সদস্যদের কক্ষসহ পুরো বাসায় তল্লাশি চালানোর অনুরোধও করা হয় ওই বার্তায়।


তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ আগস্ট বিকেলে ভাষানটেকের বাগানবাড়ি এলাকার ১৬০/বি নম্বর ‘বিলাস ভবনে’ যৌথ অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-৪ ও ভাষানটেক থানা পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি ডিবির সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।


তবে তল্লাশি চালিয়ে বার্তায় উল্লেখ করা কোনো অস্ত্র, গুলি বা ম্যাগাজিনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সার্জেন্ট অহিদুল হকের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়েও সন্দেহজনক কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত শূন্য জব্দ তালিকা দিয়ে অভিযান শেষ করা হয়।


মিলেছে শুধু দুটি গ্যাস লাইটার


অভিযানে বিপুল অস্ত্রের পরিবর্তে পিস্তলের মতো দেখতে দুটি গ্যাস লাইটার পাওয়া যায়। এগুলো ছাড়া অবৈধ বা সন্দেহজনক কোনো বস্তু উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে র‍্যাব, পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তল্লাশি চালিয়ে কিছু পাওয়া যায়নি।


ডিবির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার রাকিব খাঁন জানান, বিদেশি একটি নম্বর থেকে ভাষানটেকের একটি বাসায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকার তথ্য পাওয়ার পর ডিবির একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যদেরও পাওয়া যায়। পরে যৌথভাবে তল্লাশি চালানো হলেও সন্দেহজনক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।


তিনি বলেন, একই বার্তা ডিবি, পুলিশ ও র‍্যাবকে পাঠানো হয়েছিল। এ কারণে তিন সংস্থার সদস্যরা একই সময়ে ওই ঠিকানায় অভিযান চালান। তবে কেন একই তথ্য তিনটি সংস্থাকে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


কে পাঠাল বার্তা, কেনই বা?


আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন বিদেশি নম্বরটির প্রকৃত ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। হোয়াটসঅ্যাপে নিজেকে আবদুল্লাহ আল-আমিন শুভ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিই প্রকৃতপক্ষে বার্তাগুলো পাঠিয়েছেন কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।


তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কাউকে ফাঁসানো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই তথ্য পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এর পেছনে কারা রয়েছে বা উদ্দেশ্য কী—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


র‍্যাব-৪ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৯ আগস্ট বিকেল ৩টা ৪৯ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ওই বাড়িতে অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলমের নেতৃত্বে অভিযানে র‍্যাব ও ভাষানটেক থানা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।


তদন্তের অংশ হিসেবে বার্তার উৎস, বিদেশি নম্বরের ব্যবহারকারী এবং একই তথ্য তিনটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাঠানোর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



এমকে/বিএম২৪