বিশ্বে সর্বোচ্চ সরকারি ছুটির দেশ মিয়ানমার ও বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
বিশ্বে সর্বোচ্চ সরকারি ছুটির দেশ মিয়ানমার ও বাংলাদেশ

সূত্রঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


বিশ্বে সরকারি ছুটির সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির হিসাব নিয়ে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশের চেয়ে বেশি সরকারি ছুটি রয়েছে শুধু মিয়ানমারে। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা।


পিউ রিসার্চ সেন্টারের গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১৯০টি জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রের সরকারি ছুটির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বিশ্বে একটি দেশের সরকারি ছুটির মধ্যম সংখ্যা ১৩ দিন। এর বিপরীতে ২০২৬ সালে বাংলাদেশে সরকারি ছুটি রয়েছে ২৯ দিন।


৩০টি সরকারি ছুটি নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে মিয়ানমার। এরপর বাংলাদেশ ২৯টি এবং শ্রীলঙ্কা ২৫টি ছুটি নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া কম্বোডিয়া, ইরান ও লেবাননেও বছরে ২০টির বেশি সরকারি ছুটি রয়েছে।


অন্যদিকে সরকারি ছুটির সংখ্যা সবচেয়ে কম এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। ফেডারেল পর্যায়ে দেশটিতে মাত্র একটি সরকারি ছুটি রয়েছে। তবে দেশটির বিভিন্ন ক্যান্টনে আলাদাভাবে অন্তত আটটি ছুটি পালন করা হয়। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং উরুগুয়েতে সরকারি ছুটির সংখ্যা যথাক্রমে চার ও পাঁচটি।


গবেষকদের মতে, বাংলাদেশে সরকারি ছুটির সংখ্যা বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ দেশের ধর্মীয় বৈচিত্র্য। জনসংখ্যার বড় অংশ মুসলিম হওয়ায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে একাধিক দিন ছুটি থাকে। পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ও দিবসেও সরকারি ছুটি রয়েছে।


বাংলাদেশের সরকারি ছুটির তালিকায় মুসলিমদের ঈদ, হিন্দুদের জন্মাষ্টমী, বৌদ্ধদের বুদ্ধ পূর্ণিমা এবং খ্রিস্টানদের বড়দিনের মতো ধর্মীয় উৎসব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিবস ও অনুষ্ঠানেও ছুটি দেওয়া হয়। ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের জন্যও দুই দিন সরকারি ছুটি রাখা হয়েছিল।


শ্রীলঙ্কায় সরকারি ছুটির সংখ্যা বেশি হওয়ার পেছনেও ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয় ভূমিকা রেখেছে। দেশটি প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং তাদের ক্যালেন্ডারে চন্দ্রচক্রভিত্তিক বিভিন্ন দিবস ও উৎসব রয়েছে। মিয়ানমারেও বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি জাতিগত ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন উপলক্ষে ছুটি দেওয়া হয়।


পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষকেরা বলছেন, সাধারণত যেসব দেশে মুসলিম বা বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি, সেসব দেশে সরকারি ছুটির সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।


গবেষণার তথ্য নেওয়া হয়েছে ‘টাইম অ্যান্ড ডেট’-এর বৈশ্বিক ক্যালেন্ডার ডেটাবেস থেকে। পরে জাতীয় শ্রম আইন, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সংবাদ প্রতিবেদনের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হয়। পিউ রিসার্চ সেন্টার শুধু জাতীয়ভাবে স্বীকৃত এবং কর্মদিবস নয়—এমন সরকারি ছুটিকে হিসাবের আওতায় এনেছে। ঐচ্ছিক ছুটি, অর্ধদিবস এবং স্থানীয় বা আঞ্চলিক পর্যায়ের ছুটিগুলো এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।



এমকে/বিএম২৪