বিএনপির হাত ধরেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
বিএনপির হাত ধরেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ — বিএনপি শুধু দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।


সাক্ষাতে আন্দা ফিলিপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের বার্তা বহন করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


তারেক রহমান বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও সুগম করা সম্ভব হয়েছে। তবে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁর সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


তিনি বলেন, কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।


আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ ও কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।


বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়বে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আইপিইউ আগ্রহী বলেও জানান তিনি।


তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আন্দা ফিলিপ। তাঁর অংশগ্রহণের মাধ্যমে আইপিইউ ও বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


গণতন্ত্রকে কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন আইপিইউ সেক্রেটারি।


সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও উঠে আসে। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ তাঁদের উদ্যম ও আগ্রহের প্রশংসা করেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।


এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানো বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।



এমকে/বিএম২৪