চবির আরবি বিভাগে ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ: স্নাতক শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনা

প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
চবির আরবি বিভাগে ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ: স্নাতক শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনা

আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি :

বাংলাদেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার আনুষ্ঠানিক চর্চা শুরু হয় স্নাতকোত্তর পর্যায়ে। তবে সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আরবি বিভাগ স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করেছে একটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনা সেমিনার। ‘আন্ডারগ্র্যাজুয়েট লিটারারি রিসার্চ সেমিনার-২০২৬’ শীর্ষক এ আয়োজনে শিক্ষার্থীরা নিজেদের গবেষণা উপস্থাপন করেন শিক্ষকদের সামনে, আর শিক্ষকরা তাৎক্ষণিকভাবে সেসবের সমালোচনা, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিভাগের শ্রেণিকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মোট ছয়টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

এরমধ্যে “হাফিজ ইবরাহিমের কাব্যে প্রাচ্য চেতনা: রুশ জাপান যুদ্ধে প্রভাব” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তানভীর আহমদ। “সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী জাগরণে হাফিজ ইবরাহিম ও নজরুল ইসলামের কাব্য: একটি সমান্তরাল পাঠ” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহমদ আশফাকুল্লাহ। “হাফিজ ইবরাহিমের কবিতায় জাপানি ‘সামুরাই’ আদর্শ ও মিশরীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শের মেলবন্ধন” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাজমুল হাসান। 

এছাড়া “গদাতুল ইয়াবান: আধুনিক আরবী কবিতায় জাতীয় জাগরণের রূপক হিসেবে নারী” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আনিসুর রহমান। “উপনিবেশ বিরোধী চেতনার বিশ্বায়ন: হাফিজ ইবরাহিমের 'গাদাতুল ইয়াবান' এবং বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদী সাহিত্যের সমান্তরাল পাঠ” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তাফসির হাসান। এবং “গাদাতুল ইয়াবান: রুশ-জাপান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মিশরের জাতীয়তাবাদী কবিতার মনস্তাত্ত্বিক পাঠ” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সায়েম উদ্দীন। 

বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষার্থী আবু তৈয়্যব মো. বাহাউদ্দিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. আ.ক. ম. আবদুল কাদের, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুস, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন ফারুক, অধ্যাপক ড. মো. আমীর হোসাইন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুনাইদুল ইসলাম এবং প্রভাষক মো. ওমর ফারুক। 

সেমিনারে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উপস্থাপিত গবেষণা প্রবন্ধের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও গবেষণার পদ্ধতিগত পরামর্শ দেন।

বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন তালুকদার বলেন, “আমাদের ক্লাসগুলো বর্তমানে কবরস্থানের মতো হয়ে গেছে। অথচ আধুনিক বিশ্বে, বিশেষ করে অক্সফোর্ড-ক্যামব্রিজে ঠিক উল্টো চর্চা হয়। সেখানে শিক্ষক বসে থাকেন, শিক্ষার্থীরা গবেষণা উপস্থাপন করে, আর শিক্ষক ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেন। এতে টিমওয়ার্ক ও সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ ঘটে। সেই দিক থেকে তোমরা আরবি বিভাগে এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছ।”

সেমিনারের উপদেষ্টা প্রভাষক মো. ওমর ফারুক বলেন, “আমরা মাস্টার্সে বা শিক্ষক হওয়ার পর গবেষণার যে সুযোগ পেয়েছি, সেটি তোমাদের স্নাতক পর্যায়েই দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য, স্নাতক শেষ হওয়ার আগেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অন্তত একটি করে গবেষণাপত্র থাকবে এবং তা স্বনামধন্য জার্নালে প্রকাশের উপযোগী হবে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।”