ঘরে বসেই মিলবে পাসপোর্ট, আসছে অনলাইন ভিসা ব্যবস্থা

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
ঘরে বসেই মিলবে পাসপোর্ট, আসছে অনলাইন ভিসা ব্যবস্থা

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


নাগরিক সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের বাসায় সরাসরি পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার (হোম ডেলিভারি) উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের ভিসা ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে অনলাইন ভিসা, ই-ট্রাভেল পারমিট এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হোম ডেলিভারি সেবা চালুর জন্য ইতোমধ্যে প্রশাসনিক অনুমোদনের লক্ষ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ইউরো, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।


প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ইউরো এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাকি ৫ লাখ ৮০ হাজার ইউরো ব্যয় করা হবে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাসপোর্ট হোম ডেলিভারি চালুর বিষয়টি নীতিগতভাবে ইতিবাচক বিবেচনায় রয়েছে। তবে এটি কার্যকর করার আগে প্রশাসনিক অনুমোদন, বাজেট, নিরাপদ বিতরণব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই, নিরাপদ হস্তান্তর এবং প্রতিটি ধাপ ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে সংবেদনশীল এই রাষ্ট্রীয় নথি ভুল ব্যক্তির হাতে না পৌঁছে।


নিরাপত্তা বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, পাসপোর্ট হোম ডেলিভারি চালু হলে মানুষের সময় ও ভোগান্তি কমবে এবং সেবার মান বাড়বে। তবে প্রতিটি ধাপে শক্তিশালী পরিচয় যাচাই, নিরাপদ চেইন অব কাস্টডি এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং নিশ্চিত করা জরুরি।


প্রশাসনিক আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জাহিদ রহমানও এই উদ্যোগকে জনবান্ধব উল্লেখ করে বলেন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি জবাবদিহি, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।


অনলাইন ভিসা ও ই-ট্রাভেল পারমিটের পরিকল্পনা


ভিসা ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমানে চালু থাকা স্টিকার ভিসার পরিবর্তে অনলাইন ভিসা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন এবং পরীক্ষামূলক (পাইলট) কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।


এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফেরার সুবিধার্থে বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে ই-ট্রাভেল পারমিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


প্রস্তাবে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে দক্ষ জনবল নিয়োগের জন্য ১২১টি নতুন পদ সৃষ্টির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে বিভিন্ন কারিগরি ও প্রশাসনিক পদে নতুন নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। কুমিল্লা অঞ্চলে বাড়তি সেবার চাপ সামাল দিতে গৌরীপুরে একটি নতুন পাসপোর্ট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।


বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর ভিসা ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর বড় অংশ আন্তঃখাত সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে এবং অবশিষ্ট অর্থ সেবা চার্জ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাত থেকে সংস্থান করা হবে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অনলাইন ভিসা, ই-ট্রাভেল পারমিট এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ বাস্তবায়িত হলে নাগরিক সেবার মান বাড়বে এবং বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।


তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী আইনগত কাঠামো, স্বচ্ছ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সাইবার নিরাপত্তা এবং নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের আন্তর্জাতিক মানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। না হলে আধুনিকায়নের পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।



এমকে/বিএম২৪