নিখোঁজ যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার: দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড?
মো: মিজানুর রহমান সুমন, বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর সাদ্দাম হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত যুবকের হাত, নাক ও কান রক্তাক্ত থাকা এবং তার ব্যবহৃত সাইকেলটি নিখোঁজ হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ব্রিজের নিচের খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সাদ্দাম হোসেন ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাসানপুর গ্রামের আরজু মেম্বার বাড়ির হকসাবের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামে ‘ইগলু’ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন এবং আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দামের মেজো মামা আইয়ুব সম্প্রতি আবুধাবি থেকে দেশে ফেরেন। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে সাদ্দাম সাইকেল চালিয়ে শরীফপুর ইউনিয়নের গয়েজপুর গ্রামে মামার সঙ্গে দেখা করতে যান। রাত ৯টার দিকে তিনি মামার বাড়ি থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
রাত ১২টা বেজে গেলেও সাদ্দাম বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরপর রাতভর আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি খানপুর গ্রামের নির্মাণাধীন ব্রিজের নিচের খালে একটি লাশ ভাসতে দেখে পরিবারকে খবর দেন। স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি সাদ্দামের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন।
বিকেলে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় সাদ্দামের পকেট থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ি উদ্ধার করা হলেও, যে সাইকেলটি নিয়ে তিনি বের হয়েছিলেন সেটির কোনো সন্ধান মেলেনি।
সাদ্দামের আকস্মিক এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছেন স্বজনরা। নিহতের মামা মো. ইমাম আলীসহ পরিবারের সদস্যদের দাবি:
* মরদেহের হাত, নাক ও কান রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল।
* মোবাইল ও ঘড়ি অক্ষত থাকলেও সাদ্দামের সাইকেলটি গায়েব।
এই দুটি ক্লু-এর কারণে স্থানীয় ও পরিবার এটিকে সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা বা ডুবে মৃত্যু মানতে নারাজ। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, "খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে তরুণ এই যুবকের এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। আদরের সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক মা-বাবা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের (যদি থাকে) দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।








