স্বপ্ন পর্ব-১ কলমে: অনিকেত

প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
স্বপ্ন পর্ব-১  কলমে: অনিকেত

সন্ধ্যা থেকেই কেমন যেন উদ্ভ্রান্তের মতো হাঁটছি। এ গলি থেকে ও গলি! অনবরত হেঁটেই চলেছি। অনেক কিছু ভেবে মনটা ভার হয়ে আছে। হঠাৎ, পেছন থেকে কে যেন ডাকলো! স্যার, স্যার দাঁড়ান। একটু ঘুরেই দেখি রয়েল। 

নিজেকে সামলে থেমে গেলাম। 

স্যার, আপনার সাথে কিছু কথা ছিল, রয়েল বলল। চলেন না স্যার, একটু হেঁটে আসি! ওকে আর না করতে পারলাম না। ছেলেটি খুবই নাছোড়বান্দা। দুজনেই হাঁটছি। নাছোড়বান্দা হলেও রয়েল বেশ শান্ত প্রকৃতির। 

অনেক কথা বললো রয়েল......

আমরা একটা চায়ের দোকানে গেলাম। আগেও অনেকবার আমি এই দোকানে চা খেয়েছি। দোকানটি এক খালা পরিচালনা করেন। আজ খালাকে দেখছি না! খালা খুব চমৎকার চা বানান। আমি আনমনে কেবলই খালাকে খুঁজছি....হুট করেই একটি ছেলে এগিয়ে এলো। 

ভায়া, কিছু লাগবে? 

বললো, খালা নাই সে অসুস্থ। আমিই চা দিচ্ছি, আপনারা বসুন।

দেখতে কেমন যেন ছেলেটি! রয়েল আবার গল্প শুরু করলো। সামনে পরীক্ষা, আরো অনেক অনেক কথার সব শাখা কাহিনী.....!

কথা প্রসঙ্গে আমি ওরাকলে ক্লাস নেওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছিলাম। 

ওরাকলের কথা শুনেই ছেলেটি বলল, আপনি কোন ভার্সিটিতে পড়েছেন?

বেশ গোছানো এবং মার্জিত ভাষা।

আমি বললাম, ঢাবিতে....

শুনেই ছেলেটি এক নাগাড়ে যা বললো, তাতে রীতিমতো ভীমড়ি খেলাম!

ও ২০১৭ সালে যশোর বোর্ডে এস.এস.সি পরীক্ষায় মেধা বৃত্তি পেয়েছিলো। 

এইচএসসি খারাপ করলেও ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা থেকে প্রথম হয়ে, ফিন্যান্স বিভাগে ভর্তি হয়েছে। 

আমি বললাম, তুমি ঢাবিতে আবেদন করোনি! একথা শুনে পাশ থেকে একজন বললো, টাকার অভাবে পারেনি। ও তৎক্ষণাৎ তাকে থামিয়ে দিলো।

আমি নাম্বার দিয়ে আসলাম। বললাম, ফোন দিও। কথা আছে।

ফিরে আসার সময় সে শুধু বললো, বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি পাওয়া কি খুব টাফ স্যার?

রয়েল মনে হয় এতক্ষণে নিজের মধ্যে ছিল না! আড়চোখে আমার দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলতে গিয়ে থেমে গেল।

দোকানির বিল দিয়ে আসার সময় বলে আসলাম, শনিবার দেখা হবে। তোমার গল্প শুনবো। ছেলেটির চাহনি আমাকে অনেক কিছুর ইঙ্গিত দিল.....

ফিরে আসার পথে রয়েল আর তেমন কথা বলেনি। যাবার সময় শুধু বললো, 

স্যার, আবার সব কিছু নতুন করে শুরু করতে মন চাচ্ছে!

আমি আর কিছুই বললাম না। অজানা কিছু ভাবনা নিয়ে আবারও দিক ভ্রান্তের মতো হাঁটতে লাগলাম......

এদিকে, অনিকেত মনে নতুন কোন আতিউর রহমান স্যারের কথা ভেবে চোখের কোনে এক বিন্দু জল চলে আসলো........

মোঃ আসাদুজ্জামান 

পুলিশ লাইনস্ কুষ্টিয়া।