ফ্ল্যাট থেকে চিকিৎসক উদ্ধার
ডেস্ক রিপোর্ট:
ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হলো ৩৪ বছর বয়সী চিকিৎসক ডা. ফারা ফেরদৌসের নি,-থর দেহ।
পুলিশ জানিয়েছে, তার ম- রদেহ আংশিক গলিত অবস্থায় টেবিলে মাথা রাখা অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি প্রায় তিন দিন আগেই মা-রা গিয়েছিলেন। মৃ-ত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ফারা ফেরদৌস ২০১৭ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। এরপর ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী সার্জন হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। একজন মেধাবী, প্রতিষ্ঠিত এবং সম্ভাবনাময় চিকিৎসক হিসেবে তিনি মানুষের সেবা করে যাচ্ছিলেন।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, তিনি যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, তার কাছেই আরেকটি ফ্ল্যাটে থাকতেন তারই বোন, যিনি নিউরোসার্জারিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শেষবার তিন দিন আগে দুই বোনের মধ্যে কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। এই সময়ের মধ্যেই একটি জীবন নিভে গেল। তিন দিন পর সেই মরদেহ উদ্ধার হলো।
এই ঘটনা আমাদের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে যায়।
আমরা কি সত্যিই একে অপরের খোঁজ নিচ্ছি?
আজকের পৃথিবীতে আমরা সবাই ব্যস্ত। ক্যারিয়ার, চাকরি, পড়াশোনা, দায়িত্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। সবকিছুর জন্য সময় আছে। অথচ নিজের মানুষগুলোর জন্য প্রতিদিন পাঁচ মিনিট সময় বের করা অনেক সময় হয়ে ওঠে না।
বাবা, মা, ভাই, বোন, সন্তান কিংবা প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে একটি ফোনকল, একটি বার্তা, একটি "কেমন আছো?" হয়তো কোনো বড় সমস্যা সমাধান করবে না। কিন্তু এটি মানুষকে জানিয়ে দেয়, "তুমি একা নও।"
মানুষের সাফল্য শুধু ডিগ্রি, চাকরি বা পদবি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সম্পর্ক। যে সম্পর্ক বিপদের সময় পাশে দাঁড়ায়, অসুস্থতার সময় খোঁজ নেয়, আর নীরবতার মাঝেও বুঝতে পারে কিছু একটা ঠিক নেই।
ডা. ফারা ফেরদৌসের এই ম-র্মান্তিক মৃ -ত্যু আমাদের সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা। আমরা যেন এমন ব্যস্ত না হয়ে যাই যে, আমাদের সবচেয়ে কাছের মানুষটির খবর নিতে তিন দিন লেগে যায়।
আজই পরিবারের সদস্যদের ফোন করুন। বাবা, মায়ের খবর নিন। ভাই বা বোনকে একটি বার্তা পাঠান। বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সম্পর্কগুলোকে শুধু রক্তের বন্ধনে নয়, নিয়মিত খোঁজখবর, ভালোবাসা ও উপস্থিতির মাধ্যমে জীবন্ত রাখুন।
কারণ জীবনের শেষ মুহূর্তে মানুষ তার পদবি, ডিগ্রি বা সম্পদ নয়, নিজের মানুষগুলোকেই সবচেয়ে বেশি খোঁজে। আর অনেক সময় একটি ছোট্ট ফোনকল, একটি দরজায় কড়া নাড়া, কিংবা একটি আন্তরিক "কেমন আছো?" একটি জীবনকে অসীম একাকীত্ব থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে।








