৪১৮ মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে জেলা পরিষদের ২৭ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
৪১৮ মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে জেলা পরিষদের ২৭ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

প্রিন্স মন্ডল অলিফ,  বাগেরহাট  প্রতিনিধি:

মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে বাগেরহাট জেলা পরিষদের উদ্যোগে এসএসসি, এইচএসসি ও দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও এককালীন শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় জেলার ৪১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মোট ২৭ লাখ ২৮ হাজার টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

শনিবার (তারিখ) সকাল ১১টায় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনুপ কুমার দাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম, সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলী, খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার হাছিফ উদ্দিন রাখী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া ৫৫ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ ৩৬৩ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৪১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৭ লাখ ২৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের হাতে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) তুলে দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করছে। তিনি নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, উপকূলীয় এলাকায় বেড়ে ওঠার কারণে বিদ্যালয়ে যেতে তাকে পাঁচটি খাল সাঁতরে পার হতে হয়েছে। তাই সংগ্রাম করে এগিয়ে যাওয়ার কষ্ট তিনি খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না, অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধ ধারণ করে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে মাদক, দুর্নীতি ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হলেও সরকার পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুন্দরবনসহ দেশের বনসম্পদ রক্ষা এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে জলবায়ু ক্ষতিপূরণের ন্যায্য দাবি আদায়ে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রশাসক ও নীতিনির্ধারক। একটি বৈষম্যহীন, জ্ঞানভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তাদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানের আগে প্রতিমন্ত্রী সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।