সীমান্ত সড়ক বন্ধের দাবির তীব্র নিন্দা সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের
সূত্রঃ ফাইল ছবি
বান্দরবান প্রতিনিধি
পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাত দফা দাবির আলোচনায় সীমান্ত সড়ক বন্ধের দাবি উত্থাপনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জীবন চাক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সীমান্ত সড়ক বন্ধের দাবি পাহাড়ের সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জীবন চাক বলেন, “সীমান্ত সড়ক বন্ধের দাবি মূলত সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ ও সরকারি নজরদারি দুর্বল করার একটি অপচেষ্টা বলে আমরা মনে করি। এর ফলে বৈধভাবে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অস্থিতিশীলতা ও অবৈধ সশস্ত্র তৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ বা সীমিত করার পরিবর্তে আইনসম্মত, নিরাপদ ও জনবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কোনো সংগঠনের নিজস্ব দাবি বা রাজনৈতিক অবস্থান থাকতেই পারে। তবে সেই দাবি যদি সাধারণ মানুষের চলাচল, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বন্ধের দিকে যায়, তাহলে তার সঙ্গে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট একমত হতে পারে না।
সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জীবন চাক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে বিভাজন, সংঘাত ও অবরোধের রাজনীতি পরিহার করে আলোচনা, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সম্মান, শান্তি ও উন্নয়নের পথ অনুসরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি ও অ-বাঙালি সব জাতিসত্তার মানুষের নিরাপত্তা, সমঅধিকার, যোগাযোগ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। কোনো সড়ক বা উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আপত্তি থাকলে তা গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতিতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট সীমান্ত সড়কসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, ভয়ভীতি, হুমকি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির রাজনীতির তীব্র বিরোধিতা করে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।









