সিংগাইরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কসহ নানা অভিযোগ
ফাইল ছবি
সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌর এলাকার বিনোদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক হোসেনের বিরুদ্ধে সহকর্মী এক শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, শিক্ষার্থী ভর্তিতে অনিয়ম, শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং বিদ্যালয়ের টিন বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষে আ. মান্নান নামে এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মোস্তাক হোসেন ২০১৫ সালের ২ এপ্রিল থেকে বিদ্যালয়টিতে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগকারী আ. মান্নানের দাবি, সহকারী শিক্ষক রুপা আক্তারের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্কের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদ ও পক্ষপাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতে শিক্ষকদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক রুপা আক্তারের ছেলে সাদমান হক শাফি সাভারের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্র ছাড়াই গত ৯ মে তাকে বিনোদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। একই দিন তাকে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়নে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় সহকারী শিক্ষক শিউলি আক্তার আপত্তি জানালে প্রধান শিক্ষক তাঁকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। পরে রুপা আক্তার ও তাঁর স্বামী শিউলি আক্তারকে অপমান করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ২৪ মে বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালে প্রধান শিক্ষক মোস্তাক হোসেন ও সহকারী শিক্ষক রুপা আক্তার মিলে বিদ্যালয়ের টিন বিক্রি করেছেন বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক। রুপা আক্তার বলেন, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ সত্য নয়। বিদ্যালয়ের সব সহকর্মীর সঙ্গেই তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মোস্তাক হোসেন বলেন, গত বৃহস্পতিবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে এসে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করেছেন। রুপা আক্তারের ছেলেকে নিয়ম মেনেই পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে অন্য এক শিক্ষক আপত্তি জানানোয় পরে তার ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। অনৈতিক সম্পর্কসহ অন্যান্য অভিযোগও সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. ছবেল মিয়া বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক এবং অন্যান্য অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্তে এলেও তাঁকে ডাকা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুলতানা আছমা খান বলেন, অভিযোগে উল্লেখ করা বিষয়গুলো তাঁর কাছে গুরুতর মনে হয়নি। তারপরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল জানা যায়নি।








