সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়া কর্মী: উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
ফাইল ছবি
তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা
‘আমার মনে হয়, কেয়ামতের ময়দান থেকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়াকর্মী’—সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের এমন ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে পোস্টটির বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিকদের নিয়ে ওই মন্তব্য করেন ডা. মিজানুর রহমান। একজন সরকারি কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়। পরে তাঁর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয় অথবা এর গোপনীয়তা পরিবর্তন করা হয়।
স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা এ মন্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব। এ কারণে একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীকে নিয়ে এমন মন্তব্য দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়।
একাধিক গণমাধ্যমকর্মী বলেন, সাংবাদিকদের নিয়ে এমন মন্তব্য তাঁদের পেশাকে হেয় করার শামিল। সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। তাঁরা এ বিষয়ে ডা. মিজানুর রহমানের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. মো. আ. সালাম বলেন, ‘একজন চিকিৎসক সাংবাদিকদের নিয়ে কখনো এমন লিখতে পারেন না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগেও আলোচনা শুরু হয়েছে। দায়িত্বশীল পদে থাকা কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে পোস্টটির বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা।








