যশোরে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় আয়কর আইনজীবীকে হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ
সূত্রঃ সংগৃহীত
মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর প্রতিনিধি
যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ায় আয়কর আইনজীবী জুয়েল আক্তার মুন্সীকে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার, হয়রানি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জুয়েল আক্তার মুন্সী বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে ইছালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন। এতে তার জনসমর্থন বাড়তে থাকায় একটি পক্ষ সামাজিকভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জুয়েল আক্তার মুন্সী অভিযোগ করেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আশরাফ বিশ্বাস, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল বিশ্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মুন্না বিশ্বাসসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী সাইফুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে তার মনোহরপুর বাজারের বাড়িতে যান। এ সময় তারা তাকে গালিগালাজ করে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সাইফুজ্জামানের স্ত্রী নিশি খাতুনের সঙ্গে তার বৈবাহিক বিরোধ ও তালাকের ঘটনায় চার লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়। তবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।
জুয়েল জানান, পারিবারিক বিরোধের সময় সাইফুজ্জামান তার কাছে আইনি সহযোগিতা চাইলে তিনি আইনজীবী হিসেবে সহায়তার আশ্বাস দেন। পরে সাইফুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পাবনার ঈশ্বরদী থানায় গেলেও তার স্ত্রী নিশি খাতুনের সঙ্গে তার কোনো সাক্ষাৎ বা আলোচনা হয়নি। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, গত ২৭ জুলাই দুই পরিবারের সমঝোতায় তালাক ও দেনমোহর বাবদ চার লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ওই লেনদেনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জুয়েল আক্তার মুন্সী বলেন, এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং আদালতে মামলা করেছেন। বিষয়গুলো তদন্তাধীন থাকলেও তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তার স্ত্রী জিনিয়া জুয়েল, ভাই অভি মুন্সী ও নিকট আত্মীয় আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনি সাইফুজ্জামানের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে হুমকি বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এমকে/বিএম২৪









