পুকুরপাড়ের ঘরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ, উদ্ধার হাতে লেখা চিঠি
সংগৃহীত
মো. আব্দুর রউফ, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের গুরুদাসপুরে পুকুরপাড়ের একটি ঘর থেকে সুমাইয়া (২০) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের বাবলাতলা এলাকার হাঁড়িভাঙা বিলের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে তাঁর হাতে লেখা একটি চিঠিসহ বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত সুমাইয়া উপজেলার যোগীন্দ্রনগর গ্রামের মো. শহিদুল মণ্ডলের মেয়ে। তাঁর স্বামী আনিস মণ্ডলের বাড়ি ঝাউপাড়া গ্রামে। তাঁদের সংসারে তিন বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।
সকালে ঘর খুলে পাওয়া যায় মরদেহ
পুকুরের মালিক রাজ্জাক মণ্ডল জানান, ফজরের নামাজের পর সকালে পুকুরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, মহিষটিকে তখনো ঘর থেকে বের করা হয়নি। এতে তাঁর সন্দেহ হয়। পরে সুমাইয়ার ছেলের কাছ থেকে ঘরের চাবি নিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় সুমাইয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানান।
পুকুরের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন দম্পতি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমাইয়া ও তাঁর স্বামী আনিস মণ্ডল পুকুরপাড়ের ওই ঘরে বসবাস করতেন। তাঁরা পুকুর দেখাশোনার পাশাপাশি পুকুরমালিকের মহিষের পরিচর্যা করতেন। প্রায় ছয় মাস ধরে তাঁরা সেখানে কাজ করছিলেন।
সুমাইয়ার স্বামী আনিস মণ্ডল জানান, সোমবার (১৯ অক্টোবর) মাছ বিক্রি করতে তিনি নওগাঁর শান্তাহারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পান।
উদ্ধার হাতে লেখা চিঠি, তদন্ত করছে পুলিশ
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় সুমাইয়ার হাতে লেখা একটি চিঠি ও অন্যান্য জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নাটোরে পাঠানো হয়েছে।
তবে উদ্ধার করা চিঠিতে কী লেখা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। চিঠি ও অন্যান্য আলামত যাচাই এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মেয়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চান বাবা
সুমাইয়ার বাবা মো. শহিদুল মণ্ডল মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই গৃহবধূর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
এমকে/বিএম২৪








