পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ে চোরের হানা, উধাও ১১ ফ্যান
সূত্রঃ সংগৃহীত
সাইয়্যেদ মুহাম্মদ শান্ত, পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে ১১টি ফ্যান চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বিদ্যালয় থেকে একটি সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরে রাখা কিছু টাকাও নিয়ে গেছে তারা। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
চুরির সময় ব্যবহৃত একটি স্ক্রু ড্রাইভার বিদ্যালয়ে ফেলে গেছে চোরেরা। রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। চুরির সময় টেবিল ব্যবহার করায় সেখানে জুতার স্পষ্ট ছাপও দেখা গেছে। তবে কাঠের আলমারিতে রাখা ল্যাপটপ ও একটি প্রজেক্টরের সরঞ্জাম অক্ষত রয়েছে।
বিদ্যালয়ে এমন চুরির ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিদ্যালয়ের মূল কেচি গেট অক্ষত রেখে বারান্দার গ্রিল ব্যবহার করে দোতলায় উঠে চোরেরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে গিয়ে ফ্যানের সুইচ দিলেও ফ্যান চলছিল না। পরে ওপরে তাকিয়ে তারা দেখতে পায়, কক্ষের কোনো ফ্যানই নেই। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ফ্যান ছাড়া ক্লাস করতে তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে বলেও জানায় শিক্ষার্থীরা।
রমেন চন্দ্র রায় নামে এক শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, সকালে ছেলেকে বিদ্যালয়ে দিতে এসে জানতে পারেন ১১টি ফ্যান চুরি হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশীদ বলেন, প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে বিদ্যালয়ে এসে তালা খুলে অফিস কক্ষ এলোমেলো দেখতে পান। পরে টেবিলে জুতার ছাপ দেখতে পান। ওপরে তাকিয়ে অফিস কক্ষের চারটি ফ্যান না থাকার বিষয়টি নজরে আসে। এরপর চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কক্ষগুলোতে গিয়ে আরও সাতটি ফ্যান পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, রাতে কে বা কারা বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে ফ্যানগুলো নিয়ে গেছে। এ ছাড়া একটি সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরে রাখা কিছু টাকাও চুরি হয়েছে।
শিক্ষক হারুন অর রশীদ আরও বলেন, বিদ্যালয়ের ছুটির পর শিক্ষকরা চলে যান। তবে স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছেন, কিছুদিন ধরে সন্ধ্যার পর বিদ্যালয়ের আশপাশে কিছু লোক আড্ডা দেয় এবং মাদক সেবন করে। তারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমকে/বিএম২৪









