টুকরা করে ১১ পলিথিনে ভরা নারীর মরদেহ, উদ্ধার হয়নি মাথা-পা

প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
টুকরা করে ১১ পলিথিনে ভরা নারীর মরদেহ, উদ্ধার হয়নি মাথা-পা

সূত্রঃ সংগৃহীত

কুমিল্লা প্রতিনিধি


কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা বেগম (৫৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ টুকরা করে ১১টি পলিথিনের প্যাকেটে ভরে বস্তাবন্দী করে বাড়ির পেছনে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। তবে এখনো মরদেহের মাথা ও পা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।


এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লাইলী বেগম (৩৫) নামে এক ভাড়াটিয়াকে স্থানীয়রা আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে।


শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় দেবিদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে।


নিহত ফরিদা বেগম ফতেহাবাদ ভূঁইয়াবাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। তাঁর স্বামী চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বাড়িতে একাই থাকতেন। ওই বাড়ির একটি ঘর লাইলী আক্তারের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল।


স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে ফরিদার ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ফরিদা ডায়াবেটিসের কারণে প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হতেন। তাই স্বজনরা প্রথমে আশপাশের এলাকা ও আত্মীয়দের বাড়িতে খোঁজ নেন। পরে এলাকায় মাইকিং করা হয়।


এর মধ্যে বিকেলে ফরিদার বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পান। পরে প্যাকেটগুলোর ভেতরে ফরিদার খণ্ডিত মরদেহ রয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের কয়েকটি অংশ উদ্ধার করে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে মরদেহটি টুকরা করে ১১টি পলিথিনের প্যাকেটে ভরা হয়। পরে প্যাকেটগুলো বস্তায় ভরে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখা হয়।


ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ফরিদার বাড়ির ভাড়াটিয়া লাইলী বেগমকে আটক করে মারধর করেন। পরে তাঁকে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানেও স্থানীয়রা অবস্থান নেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে লাইলীকে থানায় নিয়ে যায়।


দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা বেগমের খণ্ডিত মরদেহের কয়েকটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো মাথা ও পা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।


ওসি আরও জানান, লাইলী বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে তাঁর স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমনের নাম রয়েছে। তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকেও পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।


এমকে