গাজীপুরে সুটকেসে খণ্ডিত নারীর লাশ, পিবিআইয়ের তদন্তে রহস্য উদঘাটন; গ্রেপ্তার ৩
সূত্রঃ সংগৃহীত
আমান উল্যাহ আমান, গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের জয়দেবপুরে খাল থেকে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় উদ্ধার হওয়া নারীর খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় নিহতের প্রেমিক, তার মা ও এক বন্ধুসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন নিহতের প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) ও মিশনের বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)।
পিবিআই জানিয়েছে, নিহত নারী ডলি আক্তার (৩০)। তিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর জয়দেবপুরের বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় একা বসবাস করতেন তিনি। বাঘের বাজারের গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন ডলি।
সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের রাজদীঘির উত্তর পাড়ে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের একটি খালে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সুটকেস ও বস্তা উদ্ধার করে এর ভেতর থেকে এক নারীর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া যায়।
লাশ উদ্ধারের পর নিহতের পরিচয় জানা না থাকায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়। পরে পিবিআই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে মিশন ইসলামের সঙ্গে ডলির পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাদের সম্পর্ক চলছিল। সম্প্রতি বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের বাসায় যান। ওই রাতে বিয়ের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিশন ডলিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর লুঙ্গি ও বালিশ ব্যবহার করে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহটি চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
পরদিন সকালে মিশনের মা বানু আক্তার মরদেহটি দেখতে পান। এরপর লাশ গুম করার পরিকল্পনা করা হয়। সুটকেসে মরদেহটি ঢোকানো সম্ভব না হওয়ায় বটি ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে মরদেহটি দুই টুকরা করা হয়।
পরে মিশনের বন্ধু মিল্টনকে ডেকে এনে অটোরিকশায় করে মরদেহের দুই অংশ সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় নেওয়া হয়। এরপর ভবানীপুর ব্রিজের ওপর থেকে সুটকেস ও বস্তা খালে ফেলে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই দুই দিন পর স্থানীয়দের মাধ্যমে মরদেহের সন্ধান পায় পুলিশ।
এ ঘটনায় ১২ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই সোহেল বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে নেমে পিবিআই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, নিহতের পরিচয়পত্র, মুঠোফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিচয়হীন এই নারীর পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এমকে/বিএম২৪









