নোবিপ্রবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্কবার্তা
সূত্রঃ সংগৃহীত
মো: শফিউল আলম , নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য, ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের প্রশাসন শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানারকম অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশনা-২০১৯’ অনুসরণ করতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন পোস্ট, ছবি, অডিও, ভিডিও, কমেন্ট, লাইক বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শ বা আলোচনা-সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য বা উপাত্ত প্রচার থেকেও বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী তথ্য বা উপাত্ত প্রকাশ, কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন কনটেন্ট প্রকাশ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে- এমন পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক ও শেয়ার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোনো সার্ভিস/পেশাকে হেয় প্রতিপন্ন করে এমন পোস্ট, লিঙ্গবৈষম্য বা এ-সংক্রান্ত বিতর্কমূলক তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ এবং জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে- এমন কনটেন্ট প্রচার থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মহামান্য আদালত ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পক্ষে যেকোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ও কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ থেকেও বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ধারা ৪৭(৮) এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ২(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ এবং চাকরি শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে।
এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
অন্যথায় উল্লেখিত আইন ও বিধির পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রচলিত অন্যান্য আইন অনুযায়ীও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
এমকে/বিএম২৪









