ঐতিহাসিক ভুবন মোহন পার্কে ফের উচ্ছেদ অভিযান, প্রশ্ন—স্থায়ী সমাধান কোথায়?
সূত্রঃ সংগৃহীত
ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীর ঐতিহাসিক ভুবন মোহন পার্কে অবৈধ দখল ও নানা অনিয়ম ঠেকাতে ফের অভিযান চালিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে পার্কের গণশৌচাগারের দ্বিতীয় তলায় থাকা একটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সিলগালা করা হয়েছে। এর একদিন আগে পার্কের ভেতরের একটি কক্ষে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করা হয়।
তবে বারবার অভিযান হলেও পার্কের দীর্ঘদিনের দখল, দোকানপাট, গ্যারেজ, চায়ের আড্ডা ও মাদকসেবীদের উৎপাত পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় স্থায়ী সমাধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী।
নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজারে অবস্থিত ভুবন মোহন পার্ক শুধু একটি বিনোদনকেন্দ্র নয়; এটি রাজশাহীর রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবিজড়িত স্থান। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত রাজশাহীর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছিল এই পার্ক। ভাষা আন্দোলনের সময় কলেজে সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এখান থেকেই বিভিন্ন বার্তা শহরবাসীর কাছে পৌঁছানো হতো।
১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পার্কে শহীদ মিনার নির্মাণ করে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে এখানে ৬৪ জন ভাষাসৈনিকের নামসংবলিত স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করা হয়।
কিন্তু ঐতিহাসিক গুরুত্বের এই স্থানটির বর্তমান চিত্র নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে নাগরিকদের। অভিযোগ রয়েছে, পার্কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে দোকানপাট, চায়ের স্টল, ফাস্টফুডের গাড়ি, সাইকেল-মোটরসাইকেলের গ্যারেজসহ নানা ধরনের অবৈধ দখল গড়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর কোথাও কোথাও মাদকসেবীদের আড্ডা এবং জুয়া চলার অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে রাসিকের অভিযানে কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ ও জুয়ার আসর থেকে কয়েকজনকে আটকের ঘটনা ঘটলেও স্থানীয়দের প্রশ্ন—অভিযান শেষে আবারও যদি দখলদাররা ফিরে আসে, তাহলে এর স্থায়ী সমাধান হবে কীভাবে?
নগরবাসী ও নাগরিক সমাজের দাবি, বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি পার্কের সীমানা ও প্রবেশপথ সুরক্ষিত করে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে হবে। একই সঙ্গে পার্কের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও শহীদ মিনার সংরক্ষণ করে এর পরিবেশকে নান্দনিকভাবে সাজানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ভুবন মোহন পার্ক আবারও রাজশাহীর মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি ভাষা আন্দোলন ও রাজশাহীর রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও পার্কটির ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব হবে।








