ঢাকা কলেজে রাজনৈতিক বিবেচনায় সিট বরাদ্দের অভিযোগ: ছাত্রশিবিরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
ঢাকা কলেজে রাজনৈতিক বিবেচনায় সিট বরাদ্দের অভিযোগ: ছাত্রশিবিরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা কলেজের আবাসিক হলগুলোতে নতুন করে প্রকাশিত সিট বরাদ্দের তালিকায় রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা কলেজ শাখা। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, আবাসিক সিট বণ্টনে এই ধরণের রাজনৈতিক বিবেচনা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার, স্বচ্ছতা ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে ঢাকা কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি মোস্তাকিম আহমেদ ও সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি বলেন, "আবাসিক সিট কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের পুরস্কার কিংবা সাংগঠনিক আনুগত্যের বিনিময়ে দেওয়ার বিষয় নয়। একজন শিক্ষার্থীর প্রয়োজন, একাডেমিক অবস্থা, বৈধতা ও ন্যায্য অধিকারই সিট বরাদ্দের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত।"


গতকাল ২৪ আগস্ট ঢাকা কলেজের ওয়েবসাইটে ১১০ জন শিক্ষার্থীর নতুন সিট বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিবিরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, প্রকাশিত তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বরাদ্দপ্রাপ্তদের অধিকাংশই ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া একই তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে একই শিক্ষার্থীর নামে দুটি সিট বরাদ্দ দেওয়া, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান এবং পরীক্ষায় সকল বিষয়ে উত্তীর্ণদের বাদ দিয়ে তিনটি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদেরও সিট দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।


নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট ভাষায় জানান, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে হল দখলের যে সংস্কৃতি ছিল, তার পুনরাবৃত্তি কোনো নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মাধ্যমে মেনে নেওয়া হবে না। কোনো শিক্ষার্থী রাজনীতি করে না বলে হলে থাকার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে আর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ অগ্রাধিকার পাবে এমন বৈষম্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা কলেজ প্রশাসনের কাছে ৩ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি:

• সিট বণ্টনের পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ নীতিমালা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।

• কোন মানদণ্ডে ১১০ জন শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া হয়েছে তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে স্পষ্ট করতে হবে।

• একজন শিক্ষার্থীর নামে দুটি সিট বরাদ্দ ও অকৃতকার্যদের সিট দেওয়াসহ উত্থাপিত সকল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, যোগ্যতা, প্রয়োজন ও স্বচ্ছতাই হতে হবে হল সিট বরাদ্দের প্রধান ভিত্তি। ঢাকা কলেজে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আবাসিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।