বর্তমান চিকিৎসার আদ্যোপান্ত

প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
বর্তমান চিকিৎসার আদ্যোপান্ত

 

আধুনিকতার দোহাই দিয়ে কি করে এক ঘন্টায়, চব্বিশ ঘণ্টায়, তিন দিনে ফলাফল দেয়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে চিকিৎসা করেন? আদৌ কি এটা সম্ভব? আপনারা বিশ্ব বিখ্যাত কোন ইউনিভার্সিটিতে এমন চিকিৎসা শিখেছেন? আমাকে জানাবেন সে ঠিকানা? 

আর বলিহারি দেশের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের, যাঁরা কোন প্রতিকারের ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। মানব দেহের অর্গাণ সমুহের সমন্বয় পদ্ধতি কি, কোন কোন অর্গাণ কি কি হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, কোন কোন গাছ বা ভেষজ বা খনিজ পদার্থ কোন কোন হরমোন সৃষ্টি করে তা না জেনেই কি চিকিৎসা দেয়া যায়? সবাই জেনিটাল অর্গাণের এক এক জন মহা পন্ডিত হয়ে গেছে মনে হয়। রোগীর মনোদৈহিক এ রোগের দূর্বলতাকে পুঁজি করে চলছে বিশৃঙ্খল এক চিকিৎসার মহোৎসব। আসলে আপনারা যারা কবিরাজি করেন, দয়া করে এমন করবেন না। এস.এস কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি ঔষধ প্রয়োগ করে জাতিকে, ভবিষ্যৎ বংশধরদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার কবর রচনা করবেন না।

অধিক ফলনের জন্য ব্যবহৃত কীটনাশক ও কেমিক্যাল সার প্রয়োগ করে যে খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে, তা আমাদের দেশের মানুষের সার্বিক শারীরিক কল্যাণ হচ্ছে না। আবার দেশে ভেষজ বা আয়ুর্বেদ বা ইউনানি বা হার্বাল নামে যে ঔষধ গুলো তৈরি হচ্ছে তাও ৯৫% কেমিক্যাল নির্ভর হয়ে গেছে। তাহলে জনস্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎ কি হবে বলতে পারেন? আপনি আমি থাকবো না, থাকবে আপনার আমার রক্তে গড়া সন্তানেরা। আমরা তাদের জন্য কি সুন্দর কোন শারীরিক নিরাপত্তা বিধান করছি? 

গত বিশ বছর যাবত দেশে যে হারে রুচি বৃদ্ধির নামে "সিপ্রোহেপ্টাডিন" ব্যবহার হচ্ছে তার প্রতিক্রিয়া অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। শিশুরা জন্ম নিয়ে ১০/১২ বছর পর্যন্ত কোন স্বাভাবিক খাবার খেতে চায় না।

পরিপুষ্ট হরমোনের অভাবে মেয়ে শিশুরা (প্রায় ৮০%) লিউকোরিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আপনারা মোটাতাজা করার নামে রুচির প্রচলিত ঔষধ প্রয়োগ করবেন না। আর সামান্য রুচীর চিকিৎসাই যদি আপনি না জানেন তাহলে চিকিৎসা দিবেন কেন?

আমার কথায় কেউ কষ্ট পেলে আমার করার কিছুই নাই। অনেক চিকিৎসা আমরা হয়তো জানি না।তা দোষের নয় কিন্তু যা জানেন তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুন। দয়া করে সর্বজান্তার ভাব দেখিয়ে কারো ক্ষতি করবেন না।


লেখক:

একেএম আব্দুস শহীদ (তাজাল্লাহ) 

             মহাসচিব 

তৃণমুল আয়ুর্বেদ চিকিৎসক সোসাইটি