চসিকের ময়লার গাড়ির স্টিয়ারিং থেকে প্রাইভেট কারের মালিক—প্রশ্নের মুখে চসিক কর্মচারীর সম্পদের হিসাব
ডেস্ক রিপোর্ট:
করপোরেশনের (চসিক) বাকলিয়া এলাকার ছোট ময়লা পরিবহনকারী গাড়ির চালক মো. শাহিনকে ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন। একজন ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত থাকলেও সময়ের সঙ্গে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চসিকের বিভিন্ন ময়লা পরিবহনকারী গাড়ির জন্য বরাদ্দকৃত ডিজেল ও অকটেন অবৈধভাবে বিক্রির মাধ্যমে তিনি এই সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ছবি ও তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, শাহিন বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেটকার এবং প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। এছাড়া নগরীতে দামি ফ্ল্যাটে বসবাসের পাশাপাশি গাড়ি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত বলে জানা গেছে। যদিও ব্যবসার কাগজপত্র অন্যের নামে রয়েছে, তবে এর নিয়ন্ত্রণ তিনি নিজেই করেন বলে একাধিক সূত্রের দাবি।
জানা যায়, শাহীন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দশ বছর যাবত এই ময়লা পরিবহনের গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে চাকরি করছেন। তার বর্তমান বেতন ১৩৫০০ টাকা।
****কী ভাবে হলেন কোটিপতি
আরও অভিযোগ রয়েছে, চসিকের ময়লা পরিবহনকারী গাড়ির চালক অর্থাৎ সিটি কর্পোরেশনের সর্বনিম্ন স্তরের চালক হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লোগো ব্যবহার করে থাকেন। একজন সরকারি প্রতিষ্ঠানের চালক হয়ে কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন—এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর নতুন ব্রিজ এলাকায় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি তেল ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত চসিকের বরাদ্দকৃত জ্বালানি বিক্রি করেন। শাহিনের কাছ থেকে ডিজেল কেনেন এমন একজন ক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমি শাহিনের কাছ থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ৯৫ টাকায় কিনি। তিনি নিয়মিতই ডিজেল বিক্রি করেন।”
***সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্দ করা তেল বিক্রি ...
জানা যায়, শাহীন প্রতিদিন সিটি কর্পোরেশন থেকে তার ময়লা পরিবহনের গাড়ি দিয়ে ময়লা আনা নেওয়া করার জন্য 6 থেকে 12 লিটার তেল সংগ্রহ করে থাকেন। তবে তার ময়লা পরিবহন করতে ট্রিপ অনুযায়ী ৬ থেকে ৮ লিটারের বেশি তেল খরচ হওয়ার কথা নয়। জানা যায়, ময়লা পরিবহনের কাজ শেষে অতিরিক্ত বেঁচে যাওয়া ডিজেল গুলো সে বিক্রি করে দেয়।
আরো জানা যায়, সে নিয়মিত গাড়ি চালিয়ে তেল সংগ্রহ করে নিয়ে আসলেও সে নিয়মিতভাবে গাড়ি চালায় না। টাকা দিয়ে সে অন্য শ্রমিককে দিয়ে এই গাড়ি চালায় এমন তথ্য ও পাওয়া গিয়েছে
অথচ বর্তমানে বাজারে কোনো ফুয়েল স্টেশন থেকে প্রতি লিটার ডিজেল কিনতে গ্রাহককে প্রায় ১১৫ টাকা পরিশোধ করতে হয়। ফলে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করে কম দামে জ্বালানি বিক্রির মাধ্যমে একটি অবৈধ বাণিজ্য গড়ে উঠেছে কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
***চাকরি পেয়ে বনে যান সিন্ডিকেটের হোতা....
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শাহিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে চালক হিসেবে চাকরি পান। এরপর ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে জ্বালানি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও তিনি এখনও বহাল তবিয়তে চাকরিতে রয়েছেন।
***অভিযুক্তের বক্তব্য...
এই বিষয়ে শাহীনের সাথে কথা বললে সে জানায়, আমি দীর্ঘদিন সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়ি চালাই।দামি প্রাইভেটকার, দামি মোটরসাইকেল নিজে কিনেছেন স্বীকার করে বলেন চাকরির পাশাপাশি আমার নিজস্ব ব্যবসা আছে।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে, যদি নিজস্ব ব্যবসাই থেকে থাকে তাহলে কেন বছরের উপর বছর সিটি কর্পোরেশনের ময়লা পরিবহন এর গাড়ি চালাতে হবে।








