বদলে যাচ্ছে রাঙামাটি, নান্দনিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবেন পর্যটকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আধুনিক ও নিরাপদ পর্যটন সুবিধার সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ হাবীব আজম।
তিনি বলেন, রাঙামাটিতে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করাই মূল লক্ষ্য। পর্যটন খাত সম্প্রসারিত হলে হোটেল, হোমস্টে, স্থানীয় খাবার, পরিবহন ও বিভিন্ন সেবাখাতে ব্যবসার সুযোগ আরও বাড়বে। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন, যা জেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
গত ১৮ মাসের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে হাবীব আজম বলেন, ২৪ সালের (১০ নভেম্বর) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অদ্যাবধি গত ১৮ মাসে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছি। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই রাঙামাটির পর্যটন খাতকে আধুনিক, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তোলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি। এ সময় রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ভিতর ঝুলন্ত সেতুতে আগত পর্যটকদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ওয়াকওয়ে ও সিঁড়ি নির্মাণ, আধুনিক ওয়াশরুম স্থাপন এবং ফিশারি ঘাটে যাত্রী ছাউনি ও স্যানিটেশন সুবিধা সংযোজনসহ একাধিক অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন।
তিনি আরও জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ভিউ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। সেখান থেকে কাপ্তাই লেক ও আশপাশের পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়, যা ইতোমধ্যে নতুন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সাজেক ভ্যালিতে পার্কিং সুবিধা সহ সিড়ি ও রাস্তা করার ফলে দুর্গম পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে। ফলে পরিবার ও বয়স্ক পর্যটকরাও এখন নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারছেন।
সবশেষে তিনি বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাঙামাটিকে আরও আকর্ষণীয় ও সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে।
তবে হাবীব আজমের সময়কার পর্যটন শিল্প বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে দিকটি উঠে এসেছে সেটি হলো
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ২১ আগস্ট ২০২৫ সালে “ট্যুর গাইড এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট” মাসব্যাপি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হয়েছে হাবীব আজমের উদ্যােগে। এই উদ্যােগটিকে সকলে ইতিবাচক হিসেবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। আধুনিক ও মানসম্মত পর্যটন শিল্পের বিকাশে এই ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণটি কাজে লাগবে বলে জানিয়েছে প্রশিক্ষণার্থীরা।
এসোসিয়েশন অব হিল ট্যুরিস্ট গাইড রাঙামাটির সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম তাজ বলেন, হাবীব আজম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পর্যটন শিল্পকে কিভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এটা নিয়ে উনি সবসময় চিন্তা করে এসেছেন। পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রায় সময় স্থানীয় সেচ্ছাসেবী সংগঠন কে সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
রাঙামাটির অন্যতম সুপরিচিত স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন "হিল সার্ভিস" প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রুবেল বলেন, রাঙামাটি থেকে দূর দূরান্ত থেকে লোকজন ভ্রমণ করতে আসেন। ভ্রমণ করতে আসা লোকজন প্রায় সময় বিপাকে পড়ে যায় তারা আসলে টুরিস্ট স্পট গুলোতে কিভাবে যাবে। হাবীব আজমের নিজ দায়িত্বে ও জেলা পরিষদ এর সহযোগিতায় যে ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ টা হয়েছিলো এতে করে ভ্রমণে আসা পর্যটক রা কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে আমি মনে করি।
দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালির পর্যটন শিল্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের লাইসেন্সিং কার্যক্রম একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে সাজেকের সামগ্রিক পর্যটন খাতে এক ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়েছে।
সাজেকের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাছির উদ্দীন পিন্টু এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হাবীব আজমের বিশেষ উদ্যোগে সাজেকের হোটেল, রিসোর্টসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য জেলা পরিষদ থেকে লাইসেন্স প্রদানের নিয়ম চালু করা হয়েছে। এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে সাজেকের সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলার মধ্যে এসেছে।









