কারমাইকেল কলেজের ক্যাম্পাসে শতবর্ষী ঐতিহ্যের সাক্ষী: আফ্রিকার বিরল 'কাইজেলিয়া'
মোঃ জাহেরুল ইসলাম: সবুজে শ্যামলে ঘেরা উত্তরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ রংপুর কারমাইকেল কলেজ। এই ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য আর গৌরবকে আরও অনন্য করে তুলেছে শতবর্ষী এক দুর্লভ উদ্ভিদ, যার নাম ‘কাইজেলিয়া’।
ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে ক্যাম্পাসে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে দুটি বিশাল কাইজেলিয়া গাছ। একটি রয়েছে প্রধান ফটক থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিপরীতে এবং অন্যটি কলেজ মসজিদের সামনে। জানা যায়, তৎকালীন সময়ে কলেজের মালি বাটুল সিং পরম মমতায় গাছ দুটি রোপণ করেছিলেন।
দূর আফ্রিকার দেশ সেনেগালের দক্ষিণাঞ্চল এই উদ্ভিদের আদি নিবাস হলেও, আফ্রিকার বাইরে এর অস্তিত্ব অত্যন্ত দুর্লভ। পৃথিবীর বিরল প্রজাতির গাছগুলোর মধ্যেও এটি অন্যতম। উচ্চতায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিটার পর্যন্ত হওয়া এই গাছের মূল আকর্ষণ এর ফল। কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে বাদামি রঙ ধারণ করা এই ফলগুলো দেখতে অনেকটা বড় লাউ বা শসার মতো।
লম্বাটে ও গোলাকার আকৃতির প্রতিটি ফলের ওজন প্রায় ৫ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে! ফলটি সরাসরি খাওয়া যায় না এবং এটি বেশ বিষাক্ত। তবে এই বিষাক্ত ফলের ভেতরেই লুকিয়ে আছে মানবদেহের নানাবিধ রোগ নিরাময়ের দারুণ সম্ভাবনা।
উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে কাইজেলিয়ার বিভিন্ন অংশ আলসার, সিফিলিস, বাত, ছত্রাক ও জটিল চর্মরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা সম্ভব। এমনকি সাপ কাটার প্রতিষেধক হিসেবেও এর কার্যকারিতা রয়েছে। আধুনিক যুগে প্রসাধনী সামগ্রী তৈরি এবং ক্যানসার গবেষণাতেও এই ওষুধি গাছের ব্যবহার নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
শত বছর ধরে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ছায়া ও সৌন্দর্য বিলিয়ে যাওয়া এই দুর্লভ কাইজেলিয়া গাছ দুটি শুধু ক্যাম্পাসেরই নয়, বরং পুরো দেশের এক অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ।









