উলাশী খাল খননের মাটি বহনে রাস্তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত, হাজারো পথচারীর জীবন ঝুঁকিতে চলাচল
নিজস্ব প্রতিবেদক :
- যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী উলাশী খাল খনন প্রকল্পের মাটি যত্রতত্র পরিবহনের কারণে স্থানীয় প্রধান সড়কটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অপরিকল্পিত ও বেপরোয়াভাবে ড্রাম ট্রাকে করে ভেজা মাটি বহনের ফলে রাস্তা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে কাদামাটি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, ফলে হাজারো পথচারী ও যানবাহন এখন জীবন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উলাশী খাল থেকে এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে তা বড় বড় ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ট্রাক থেকে চুইয়ে পড়া ভেজা মাটি চাকার পিষ্টে পুরো সড়কে লেপ্টে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এই মাটি গলে গিয়ে রাস্তাটিকে এক ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদে পরিণত করছে। আর শুকিয়ে গেলে পুরো এলাকা ধুলার সাগরে পরিণত হচ্ছে, যা পথচারীদের শ্বাসকষ্ট ও চোখের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ড্রাম ট্রাকগুলো যেভাবে বেপরোয়া গতিতে মাটি নিয়ে যায়, তাতে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। মনে হয় না এটা কোনো পিচের রাস্তা, যেন ফসলের খেত!"
এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। বিশেষ করে স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এই রাস্তা ব্যবহার করে। কাদা ও গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা আছাড় খেয়ে জামাকাপড় নষ্ট করছে, এমনকি অনেকে গুরুতর আহতও হচ্ছে। এছাড়া কোনো জরুরি রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখন আর এই সড়কে নেই। ভ্যান, ইজিবাইক বা অ্যাম্বুলেন্স চালকরা এই রুটে আসতে চাচ্ছেন না, আর আসলেও গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, খালের উন্নয়ন করা ভালো উদ্যোগ, কিন্তু একটি উন্নয়ন করতে গিয়ে জনগণের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি এভাবে ধ্বংস করার কোনো মানে হয় না। মাটি বহনের সময় ট্রাকগুলো ত্রিপল দিয়ে ঢাকা হচ্ছে না এবং রাস্তা পরিষ্কার করার কোনো উদ্যোগও ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও পথচারীরা অতি দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার এবং মাটি পরিবহন সুশৃঙ্খল করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তারা।









