সিংগাইরে ভিটেবাড়ি উচ্ছেদে দোকানঘরে মা- মেয়ের মানবেতর জীবন!

প্রকাশিত: ০৭ মে ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
সিংগাইরে ভিটেবাড়ি উচ্ছেদে দোকানঘরে মা- মেয়ের মানবেতর জীবন!

সোহরাব হোসেন,  সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি :

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের আঠালিয়া গ্রামে ভিটেবাড়ি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জরিনা বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধা। বসতঘর ভাঙচুর ও উচ্ছেদের অভিযোগ তুলে তিনি ও তার মেয়ে রত্না আক্তার রুমা বর্তমানে এক দোকানঘরে মানবতার জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে। 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে সরেজমিনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, আঠালিয়া মৌজার আরএস ৯২৩, ৯২৪ ও ৯২৯ দাগের ৬৬ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। জরিনা বেগমের দাবি, তার নানা কোনো ছেলে সন্তান রেখে যাননি। ফলে তার মা ও দুই খালা ওই সম্পত্তির মালিক । মায়ের ওয়ারিশ সূত্রে তিনি ২২ বছর ধরে তারা ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন।

পরিবারটির অভিযোগ, খালার ওয়ারিশান হিসেবে তার ছেলে জোয়ার্দার খাঁ সম্পত্তির একটি অংশ নোয়াখালীর ইছাক নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। পরে ওই জমি স্থানীয় আঠালিয়া গ্রামের মৃত জব্বারের ছেলে প্রবাসী মিলনের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর থেকেই বৃদ্ধা জরিনা বেগমের পরিবারকে উচ্ছেদের নানা চেষ্টা করে মিলন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত মিলনের পক্ষ নিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় মেম্বারের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল বৃদ্ধার বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ এপ্রিল জরিনা বেগমের ভিটে বাড়িতে ঢুকে তারা ঘর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তবে অভিযুক্ত মিলন ঘরবাড়ি ভাঙচুরের কথা অস্বীকার করে বলেন, “জরিনা বেগমের ওই জায়গায় কোনো বৈধ স্বত্ব নেই। মানবিক কারণে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পাশেই ৫ শতাংশ জমি কিনে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছি ।”

এদিকে,বৃদ্ধার মেয়ে রত্না আক্তার রুমা বলেন,

“মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে আমাদের ভিটেবাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো পুনর্বাসনের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হয়নি। মিলন ফাঁকি দিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার পর আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। বর্তমানে একটি ছোট দোকান ঘরে অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবন- যাপন করছি। 

তিনি আরও বলেন, পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের কথা হয়েছে বলে শুনেছি।