‘শিক্ষক হলেও সবাই প্রশাসনিক পদে যেতে চায়’ আক্ষেপ অধ্যাপক মামুনের

প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
‘শিক্ষক হলেও সবাই প্রশাসনিক পদে যেতে চায়’ আক্ষেপ অধ্যাপক মামুনের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আচরণ ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সিনেট সদস্য কামরুল হাসান মামুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার আচরণের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

শনিবার (২০ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনেক সময় জুনিয়র কর্মকর্তাদের অফিসে গিয়ে তাদের চেয়ার ব্যবহার করতে দেখা যায়, যা কেবল প্রটোকল ভঙ্গই নয়, বরং প্রশাসনিক কার্যক্রমে পেশাদারিত্বের অভাবেরও পরিচায়ক।

ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন লিখেছেন, একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একটি স্কুল পরিদর্শনের সময় প্রধান শিক্ষকের অফিসে গিয়ে তার চেয়ারে বসে প্রধান শিক্ষককে তিরস্কার করেন। শুধু তাই নয়, পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের উদ্দেশ্যে প্রদর্শনীমূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ প্রধান শিক্ষককে শুধু ব্যক্তিগতভাবে অপমানই করেনি, বরং শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামনেও তাকে সামাজিকভাবে হেয় করেছে।

প্রশাসনের পেশাদারিত্ব নিয়ে সমালোচনা করে তিনি লেখেন, “এই হলো আমাদের আমলারা। একটি উপজেলার কর্মকর্তা। আমলা হওয়া অনেক বাকি। তাতেই এই অবস্থা। এই দেশের ইউএনও হলে উপজেলার জমিদার আর ডিসি হলে জেলার প্রধানমন্ত্রী মনে করে।”

নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলেন, কোনো অফিসের চেয়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্ব ও মর্যাদার প্রতীক। তার ভাষায়, “আমার অফিসে আমার চেয়ারে আমি ছাড়া অন্য কেউ বসতে পারে না। এমনকি ভিসি বা প্রধানমন্ত্রী এলেও না। তাদের জন্য প্রয়োজনে আলাদা চেয়ারের ব্যবস্থা করা হবে, কিন্তু আমার চেয়ারে বসতে পারে না।”

শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা প্রসঙ্গে অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকই সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি হওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান প্রবাহের জন্য শিক্ষকের প্রতি সম্মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি লিখেছেন, “শিক্ষক থেকে ছাত্রে জ্ঞান প্রবাহের জন্য যেমন পানির প্রবাহে ঢাল প্রয়োজন হয়, তেমনি শিক্ষার ক্ষেত্রেও সম্মানই সেই ঢালের ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের যদি শিক্ষকের প্রতি যথাযথ সম্মান না থাকে, তাহলে জ্ঞান প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হবে।”

পোস্টের শেষাংশে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দেশের সমাজব্যবস্থা শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে শিক্ষকতা পেশার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। অনেকেই শিক্ষক হওয়ার পরও কীভাবে প্রশাসনিক পদে যাওয়া যায়, সে চেষ্টা করেন। অথচ শিক্ষকতা একটি মহৎ ও অসাধারণ পেশা, যা সমাজ গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনের এই বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা ও প্রশাসনিক আচরণে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছেন।