‘আয়নাঘর’ই ফ্যাসিবাদের নির্মম সাক্ষ্য: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
‘আয়নাঘর’ই ফ্যাসিবাদের নির্মম সাক্ষ্য: চিফ প্রসিকিউটর

সূত্রঃ ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, বহুল আলোচিত ‘আয়নাঘর’ ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার ভয়াবহতার এক জীবন্ত সাক্ষ্য। এটি কোনো কল্পকাহিনি নয়; বরং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। তার ভাষ্য, এই গোপন নির্যাতনকেন্দ্রই প্রমাণ করে সে সময় রাষ্ট্র পরিচালনায় ফ্যাসিবাদী চরিত্র কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।


শনিবার (১ আগস্ট) র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।


পরিদর্শন শেষে মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আয়নাঘরের ভেতরের দৃশ্য অত্যন্ত মর্মান্তিক। সেখানে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৯টি সেল রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ভিন্নমতের মানুষদের এসব কক্ষে বছরের পর বছর আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো। অনেককে দীর্ঘদিন গোপনে আটকে রাখার পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানায় সোপর্দ করা হতো। আবার অনেককে হত্যার পর মরদেহ গুম করার অভিযোগও রয়েছে।


তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর উদ্ধার হওয়া কয়েকজন ভুক্তভোগী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান অন্যতম। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে টিএফআই সেলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার বিচার চলছে। তবে এখনো প্রায় ২৫০ জন গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের তালিকায় ইলিয়াস আলী ও সুমনসহ আরও অনেকের নাম রয়েছে।


চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকেও একসময় এই আয়নাঘরের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে তাকে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


তিনি বলেন, এসব ঘটনায় যারা সরাসরি নির্যাতনে জড়িত ছিলেন, যারা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমে ভূমিকা রেখেছেন কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছেন, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রসিকিউশন টিম ও তদন্ত সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।


ন্যায়বিচারের স্বার্থে এদিন বেলা ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী গোপন এই বন্দিশালা পরিদর্শন করেন। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, সহিদুল ইসলাম সরদার, তাসমিরুল ইসলাম, মঈনুল করিমসহ প্রসিকিউশন টিমের সদস্য এবং আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।