১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সকল জেলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

চট্টগ্রাম বোর্ডের জেলাগুলো হলো চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।

শনিবার (১০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটিতে বন্যায় সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় এমপি ও দলীয় সকল সংগঠনের নেতাকর্মীদের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরই মধ্যে ত্রাণ বাবদ ২ কোটি টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়াও উদ্ধার কার্যক্রমে নিয়োজিত রাখা হয়েছে বিজিবি, সেনাবাহিনী, কোস্ট গার্ডসহ সরকারি বিভিন্ন বাহিনীকে। প্রস্তুত করা হয়েছে ১ হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র। আশ্রয়কেন্দ্রে ওষুধ, স্যানিটেশনসহ স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার নানা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান ড. মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকার দায়বদ্ধতা ও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার শনিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।


নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙার কোনো ইচ্ছা বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার কোনো বাসনা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না। তাই ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্র্যাকডাউনের আগে তাজউদ্দিন আহমেদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

শনিবার (১১ জুলাই) ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, তাজউদ্দিন সাহেব শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানিরা আক্রমণ করতে যাচ্ছে, মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ সাহেব তখন বলেছিলেন, আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারি না, পাকিস্তান ভাঙতে আমার কোনো অবদান থাকুক এটি আমি চাই না। সুতরাং তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশেহারা ও অবদমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখনই ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসের সাথে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি বলেন, এটিই হলো প্রকৃত সত্য।

মেজর হাফিজ উদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল একটি জনতার যুদ্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে শুধু ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার কৃতিত্ব নিতে চেয়েছিল, যা ছিল চরম অন্যায়।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা সাধারণত অন্যের কৃতিত্ব হাইজ্যাক করেন এবং নিজের দলের নেতাকে ছাড়া কাউকে কৃতিত্ব দিতে চান না।

আলোচনায় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তখন পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। একেকটি ক্যান্টনমেন্টে তারা কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা যোগাযোগ ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধ যুদ্ধই ছিল ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি।

সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি জানান, তিনি মূলত ফুটবল খেলার টানেই সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণাতেই তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক এদেশের মহান রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।

এছাড়াও তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের রেজিমেন্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। পরিশেষে, তিনি সৈনিকদের সাথে অফিসারদের সম্পর্কের যে চিরাচরিত বন্ধন তা পুনরায় শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

আলোচনায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তখন পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। একেকটি ক্যান্টনমেন্টে তারা কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধ যুদ্ধই ছিল ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি।