পাঁচগাছি নওয়াবস চরের মানুষের দর্গমের যেন শেষ নেই

প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
পাঁচগাছি নওয়াবস চরের মানুষের দর্গমের যেন শেষ নেই

মোঃ কাজল ইসলাম,  কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রতিনিধি:

নওয়াবস চরের মানুষের জীবন-জীবিকা পার হচ্ছে চরম কষ্ট ও দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে। হাঁটা চলার জন্য নেই পাঁকা রাস্তা। কিন্তু বালু যুক্ত যে রাস্তা আছে তাও যেন নাই। আর কত? প্রশ্ন জনমনের।

কুড়িগ্রাম জেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের চর নওয়াবসে চলার জন্য নেই পাঁকা রাস্তা। আছে বালুময় রাস্তা কিন্তু তাও চলার মতো উপযোগী না। বৃষ্টি হলেও রাস্তায় দেখা মেলে খাল বিলের। যার ফলে চলাচল করতে কষ্টকর হচ্ছে স্থানীয়দের। ইউনিয়নের মেম্বার চেয়ারম্যানের পরিবর্তন হয় কিন্তু পরিবর্তন হয় না চর অঞ্চলের। প্রতিকার মেলে না জনগণের। কবে দূর হবে এই দুর্গম পরিস্থিতি বা কবে শেষ হবে এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ দুর্দশা? প্রশ্ন করে স্থানীয়রা.....

সরজমিনে দেখা মেলে, রাস্তার অত্যান্ত শোচনীয় অবস্থা। চাকা যুক্ত গাড়ি তো দূরের কথা পায়ে হেঁটেই যেন যাওয়া যায় না। কষ্ট বেশি পোহাতে হয় বৃদ্ধ ও শিশুদের। তারা যেন রাস্তায় চলতেই পারে না। হাত ধরে বা ধীর গতিতে চলতে হয় তাদের। জরুরি কাজ থাকলেও যেন রাস্তার কাছে তা হার মেনে যায়। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা ঘরবাড়িতে আগুন লাগলে আসতে পারে না এ্যম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। এতে করে জীবন ও বসতবাড়ি হারাতে হয় এই চরের মানুষদের। 

রাস্তা ঘাটের পাশাপাশি আরও একটি বড় সমস্যা হচ্ছে বন্যা। ধরলা নদীর নিকটস্থ হওয়ার ফলে বন্যার সময় দ্রুত পানি চলে আসে এই অঞ্চলে। ফলে বসবাস, আর্থিক এবং গৃহপালিত পশু নিয়ে নানামুখী সমস্যায় পড়তে হয় এখানকার লোকজনের। এখানে অধিকাংশ পরিবার কৃষি কাজের সাথে জড়িত। কৃষিকে তাদের প্রধান আয়ের উৎস বলা চলে। কৃষি জমিতে ফসল উৎপাদন করে সে ফসল বাজারে সরবরাহ করে অর্থ উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। কিন্তু বন্যার সময় পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে ফসল উৎপাদন করতে ব্যর্থহয় চরের বাসিন্দারা। এর ফলে অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে জীবন পার করতে হয় পরিবার গুলোর।

এছাড়াও বন্যার সময় গৃহপালিত পশু নিয়েও আরও একটি সমস্যা পোহাতে নওয়াবস চরের মানুষদের। ঘরবাড়িতে পানি উঠার ফলে থাকতে গৃহপালিত পশু গুলোকে রাখতে পারে না গোয়াল ঘরে। এবং দিতে পারেন না সঠিক মতো খাবার। এ জন্য গরু ছাগলের মধ্যে দেখা দেয় বড় বড় রোগ বালাই। যার ফলে গরু ছাগল গুলোকে সস্তা দামে বিক্রি করতে হয় হাটে - বাজারে। এতে করে সঠিক মূল্য না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলো।

এ বিষয় চর নওয়াবসের স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রাসেল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি হলে রাস্তা গুলোতে পানি হয়। এ্যম্বুলেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি জরুরি প্রয়োজনে আসতে পারে না। চরের মানুষের খুব কষ্ট। আমি এবং আমরা চাই চরের রাস্তা গুলোর উন্নত ব্যবস্থা করা হোক।

নজির উদ্দীন নামে আরও একজন জানান, বন্যার সময় অনেক কষ্টে পড়তে হয় তাদের। বন্যার সময় নিজের ঘরে থাকতে পারেন না তারা। উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে হয়। সেখানে পরিবেশ ভালো হয় না। খাবার সমস্যা দেখা দেয়। মানুষের পাশাপাশি সমস্যা আরও দেখা দেয় গৃহপালিত পশুদের নিয়ে। তাদেরও থাকা খাওয়া নিয়ে জটিল সমস্যা দেখা দেয় রোগ বালাই দেখা দেয়। এ জন্য সস্তা দামে বিক্রি করি দিতে হয়।

রাসেল ও নজির উদ্দীনের মত করে একাধিক জন ব্যক্তি দাবি করে বলেন, স্থানীয় সরকার বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে চর অঞ্চলের যে সমস্যা গুলো আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করে চরের মানুষের দুঃখ কষ্ট থেকে মুক্তি পদ বের করুক।