প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা ও অবরুদ্ধ করার অভিযোগ: আতঙ্কে ভুক্তভোগীরা
মো: মিজানুর রহমান সুমন, বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় দেওয়ানি মামলা ও ভূমি বিরোধের জেরে এক প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অবরুদ্ধ করে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী প্রকৌশলী রাজিউল হাসান। এর আগে, গত ১ জুন উপজেলার আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোয়ারিয়া গ্রামের কোয়ারিয়া হাজী বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরেন প্রকৌশলী রাজিউল হাসান। ১ জুন তারা নিজেদের পুকুরপাড় সংস্কারের জন্য মাটি ফেলার কাজ শুরু করলে প্রতিবেশী শহীদ আলম ও কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা প্রবাসী পরিবারের বসতবাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা রাজিউল হাসানের প্রবীণ বাবা এ.কে.এম. নুর উদ্দিন কাশেমকে হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে এবং ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে লাঞ্ছিত করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে পরিবারের নারী সদস্যদেরও গালিগালাজ ও হেনস্তা করা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নুর উদ্দিন কাশেমকে হত্যা করে লাশ গুম করার এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঘটনার পর টানা তিন দিন বাড়ির সামনে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে পুরো পরিবারকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখে অভিযুক্তরা। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের অধিকাংশ সদস্য প্রবাসে থাকার সুবাদে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের জমি দখলের চেষ্টা করছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
তবে হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম। উল্টো দাবি করে তিনি বলেন,
"তারা আমাদের জায়গায় জোরপূর্বক ঘাটলা নির্মাণ করতে গেলে আমরা কেবল বাধা দিয়েছি। প্রকৃতপক্ষে তারা বেআইনিভাবে আমাদের জমি দখল করে রেখেছে। এই সংক্রান্ত মামলাটি আদালতে গেলে রায় আমাদের পক্ষেই এসেছে।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেগমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলাম বলেন,
"পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রবাসী পরিবারকে গালিগালাজ এবং তাদের প্রধান ফটকে আঘাত করার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজে বাড়ির মালিককে ধাক্কা দেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
দীর্ঘদিনের দেওয়ানি মামলার জেরে প্রবাসীর বাড়িতে এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি দ্রুত নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাবে।








