স্কুলছাত্রকে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংস হামলা, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ১০ম শ্রেণির সিফাত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাবনা জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অতর্কিত হামলায় পাবনা জেলা স্কুলের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীসহ দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) স্থানান্তর করা হয়েছে।
পারিবারিক ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাবনা জেলা স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র মোঃ সিফাত (১৫) ও তার বন্ধু মোঃ রাদ (২০) শহরের শালগাড়ীয়া এলাকায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ২য় গেটের সামনে দিয়ে হাঁটছিলেন। এসময় ৪টি মোটরসাইকেল ও অটো বোরাকযোগে আসা ৭-৮ জন সশস্ত্র যুবক তাদের গতিরোধ করে।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১নং আসামী মেহেদী হাসান জাহিদ চাইনিজ কুড়াল দিয়ে সিফাতের বুকের বাম পাশে হৃদপিণ্ড লক্ষ্য করে কোপ দেয়, যাতে প্রায় ৪ ইঞ্চি গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এছাড়া ২ ও ৩ নং আসামীরা সিফাতের পিঠের নিচের অংশে চাকুর সাহায্যে নৃশংসভাবে আঘাত করে, যেখানে ১৮টি সেলাই লেগেছে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে বন্ধু রাদও গুরুতর আহত হন।
হামলার সময় সন্ত্রাসীরা সিফাতের কাছে থাকা একটি আইফোন ১৩ প্রো এবং রাদের নিকট থাকা অ্যান্ড্রয়েড ফোনসহ নগদ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সিফাতের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় সিফাতের মা মোছাঃ রেবা সুলতানা বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। আসামিরা সবাই শহরের গোবিন্দা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পাবনা সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই কিশোর গ্যাং কালচারের মূল উৎপাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।








