১০ বছর পর তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেফতার, রিমান্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ ১০ বছর পর চাঞ্চল্যকর সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান। আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম।
এর আগে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে নিজ বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলায় এটাই প্রথম কোনো প্রত্যক্ষ গ্রেফতারের ঘটনা, যা নতুন করে তদন্তে গতি সঞ্চার করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে তিন সন্দেহভাজন—সার্জেন্ট জাহিদ, অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও ক্রস-ম্যাচ করার অনুমতি চান। আদালত এ বিষয়ে সম্মতি দিলে তদন্তে নতুন অগ্রগতি আসে এবং এরই ধারাবাহিকতায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে, এ পর্যন্ত মামলাটির ৮০টি ধার্য তারিখ পার হয়েছে এবং চারটি ভিন্ন সংস্থার অধীনে সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা এ মামলা পরিচালনা করেছেন। দীর্ঘ সময়েও মামলার কোনো সুরাহা না হওয়ায় শুরু থেকেই ভুক্তভোগীর পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার ভেতরে সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত বিচার দাবি করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আন্দোলনে নামে। কিন্তু এক দশক পেরিয়ে গেলেও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক গ্রেফতার ও ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ মামলার রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে মামলার অন্যান্য সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, তনুর পরিবার ও সাধারণ মানুষ এ ঘটনায় দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।








