মেক্সট বৃত্তি পেয়ে জাপান যাচ্ছেন মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থী মাহিন আহমেদ

প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
মেক্সট বৃত্তি পেয়ে জাপান যাচ্ছেন মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থী মাহিন আহমেদ

সাব্বির, ‌‌মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (ESRM) বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল মাহিন আহমেদ জাপান সরকারের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ MEXT (Monbukagakusho) Scholarship অর্জন করেছেন। তিনি জাপানের তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের (QS World Ranking: 102) গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ অনুষদের International Environmental Security Leadership Program (IESLP) এ মাস্টার্স প্রোগ্রামে নির্বাচিত হয়েছেন।

MEXT স্কলারশিপ জাপান সরকারের প্রদান করা একটি আন্তর্জাতিক মানের বৃত্তি। এই বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য একাডেমিক খরচ বহন করা হয়। পাশাপাশি মাসিক উপবৃত্তি, বিমান ভাড়া এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়।

নিজের এই অর্জন নিয়ে আল মাহিন আহমেদ বলেন, “সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি আমাকে এই সুযোগটি দিয়েছেন। প্রথমেই আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার বাবা-মায়ের প্রতি, যারা আমাদের তিন ভাই-বোনের জন্য সবসময় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছেন। আমার কাকা মাসুদ রানা, ইমরান হোসেন পলাশসহ পরিবারের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমার পড়াশোনার যাত্রায় পাশে ছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমার একাডেমিক সুপারভাইজার ড. তন্ময় রয় তুষার স্যারের প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর মূল্যবান দিকনির্দেশনা, পরামর্শ ও সহযোগিতা আমাকে এই অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়াও বিভাগের সকল শিক্ষকবৃন্দ, শ্রদ্ধেয় বড় ভাই-আপুদের, বিশেষ করে চৈতী আপু, এবং আমার বন্ধু ও ছোট ভাই-বোনদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাঁদের ভালোবাসা, উৎসাহ ও সহযোগিতা আমার এই যাত্রাকে আরও সহজ ও অনুপ্রেরণাময় করেছে।”

আল মাহিন জানান, MEXT স্কলারশিপের পুরো প্রক্রিয়াটি তার জন্য ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। তিনি বলেন, “প্রফেসরের কাছ থেকে ই-মেইলের রিপ্লাই পাই ১৪ অক্টোবর, অথচ অনলাইন আবেদনের শেষ সময় ছিল ১৭ অক্টোবর। মাত্র ২-৩ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন সম্পন্ন করতে হয়। এরপর ১৪ নভেম্বরের মধ্যে সব অরিজিনাল ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার বিষয়টি আসে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অনার্সের মূল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা, কারণ তখন অনার্সের রেজাল্ট প্রকাশের এক মাসও পূর্ণ হয়নি। বিভিন্ন অফিসে যোগাযোগ করে আমার যতদূর মনে পড়ে ৯টি অফিসে দৌড়াদৌড়ি করে এবং IESLP প্রোগ্রাম মেইন সার্টিফিকেট চাচ্ছে এই মর্মে একটি দরখাস্ত লিখে শেষ পর্যন্ত মূল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে সক্ষম হই।”

তিনি আরও বলেন, “IELTS স্কোর সংগ্রহ করাও ছিল আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রফেসরের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্কোর প্রয়োজন ছিল। পেপার-বেজড পরীক্ষায় ফলাফল পেতে ১৩-১৪ দিন সময় লাগত, তাই বাধ্য হয়ে কম্পিউটার-বেজড পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিই। ১৫-১৬ দিন এর সীমিত প্রস্তুতি নিয়ে কোনো প্রকার মক টেস্ট না দিয়ে মেইন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি এবং আলহামদুলিল্লাহ তাদের রিকয়ারম্যান্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্কোর অর্জন করতে সক্ষম হই।”

এরপর তিনি ৩ ডিসেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইন্টারভিউ দেন এবং সফলভাবে তা সম্পন্ন করেন। সবশেষে ১৬ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ২৫ জুন চূড়ান্তভাবে MEXT স্কলারশিপের জন্য মনোনীত হন।

তিনি বলেন, “আমাদের প্রোগ্রাম থেকে মাস্টার্সের জন্য ৫ জন শিক্ষার্থী MEXT স্কলারশিপ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে আমি প্রথম স্থান অর্জন করেছি। আমার সুপারভাইজারের সুপারিশ, ইন্টারভিউ পারফরম্যান্স, CGPA, IELTS স্কোর এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করি।”

আল মাহিনের জন্ম ও শৈশব কেটেছে কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার লাইম পাশা গ্রামে। তিনি কিশোরগঞ্জ সদরের আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকা সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি চাই গবেষণার মাধ্যমে পরিবেশ ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে। এজন্য সবার কাছে দোয়া চাই, যেন নিজের দেশ ও মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে পারি।”

উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সাল থেকে জাপান সরকার বিশ্বের প্রায় ১৬০টি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য MEXT Scholarship প্রদান করে আসছে। এটি জাপান সরকারের সবচেয়ে সম্মানজনক ও জনপ্রিয় বৃত্তিগুলোর একটি। গবেষণা ও শিক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ব উন্নয়নে অবদান রাখাই এই বৃত্তির অন্যতম লক্ষ্য।