সৌদিকে সহায়তা করলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি হুথিদের
সূত্রঃ সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা দিলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হলে মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুঁশিয়ারি দেন হুথিদের সামরিক উপদেষ্টা আবেদ মোহাম্মদ আল-থাওর।
আল-থাওর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে ইয়েমেনে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে কিংবা বাব আল-মানদেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেটিকে ‘চরম সীমা লঙ্ঘন’ হিসেবে দেখা হবে এবং হুথিরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সৌদি আরবকে বিমান হামলা বা আকাশপথে সহায়তা দেয়, তাহলে হুথিরা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে মার্কিন জাহাজের জন্য বাব আল-মানদেব প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।
সম্প্রতি হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বেশ কিছু কৌশলগত এলাকা এবং বাব আল-মানদেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। এ প্রণালীটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে এর গুরুত্ব রয়েছে।
হুথিদের অগ্রযাত্রার পর সৌদি আরব তাদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেননি।
এদিকে হুথি সামরিক উপদেষ্টা আবেদ মোহাম্মদ আল-থাওর ইরানের কাছ থেকে সরাসরি নির্দেশনা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ইরান হুথিদের বন্ধু ও মিত্র হলেও গোষ্ঠীটি নিজেদের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডে স্বাধীন।
ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মানবিক পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাবে, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসে তা ২ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সংঘাতের পাশাপাশি বাব আল-মানদেব প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।









