পূর্বশত্রুতার জেরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর হাত ভেঙে দিল আপন চাচা
মোঃ মেহেদী হাসান, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতা ও তুচ্ছ ঘটনার জেরে বিথী আক্তার নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ডান হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচার বিরুদ্ধে। আজ এসএসসির প্রথম পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পরপরই এই নৃশংস হামলার শিকার হন ওই শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত অবস্থায় বিথীকে উদ্ধার করে প্রথমে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর জরুরী বিভাগ, পরবর্তীতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী বিথী আক্তার মঠবাড়িয়া উপজেলার জানখালী গ্রামের তোফেল আকন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
আহত শিক্ষার্থী বিথী আক্তারের সাথে কথা বলে জানা যায়, বসতবাড়ির জমিজমা নিয়ে আপন চাচাদের সাথে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষে তুষখালী কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার পর এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। রান্নাঘর থেকে বের হওয়া ধোঁয়াকে কেন্দ্র করে বিথীর আপন চাচা নজরুল হঠাৎ তার মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
একপর্যায়ে চাচা নজরুল ও তার লোকজন রান্নাঘরে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ভাঙচুর করেন এবং বিথীর একটি মোবাইল ফোন ও তার সাথে থাকা ৫,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে বিথী তার ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনটি ফেরত আনতে গেলে হামলাকারীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তার ডান হাত ভেঙে দেয়।
হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে বিথী আক্তার বলেন, "আমার পরিবারের আরও তিন ভাই-বোন কেউ এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি। আমার অনেক বড় স্বপ্ন ছিল এসএসসি পাস করার। কিন্তু তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হাতুড়ি দিয়ে আমার ডান হাত ভেঙে দিয়েছে, যেন আমি আর কোনোভাবেই সামনের পরীক্ষাগুলো দিতে না পারি।"
হামলার পরপরই স্বজনরা বিথীকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে মঠবাড়িয়া সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার হাত ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মঠবাড়িয়া সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক জানান, "রোগীকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর আমরা তার ডান হাতে গুরুতর আঘাত এবং ওপেন উন্ড (উন্মুক্ত ক্ষত) দেখতে পাই। প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রেসার ব্যান্ডেজ দেওয়ার পর রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।"
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। প্রস্তুতি চলছিল।









