ভিটেবাড়ি রক্ষায় বৃদ্ধার আর্তি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের আঠালিয়া গ্রামের জরিনা বেগম (৭৫)নামের এক বৃদ্ধার ঘর ভাঙচুর করে তাকে ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী প্রবাসী মিলনের বিরুদ্ধে । এতে ওই বৃদ্ধা তার মেয়ে রত্না আক্তারকে নিয়ে উচ্ছেদ আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন।
মঙ্গলবার(২১ এপ্রিল)দুপুরে সরেজমিন ঘটনার সত্যতা মেলে।
এ সময় ভুক্তভোগী বৃদ্ধা জরিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন,আমার নানার কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় আমার মা ও দুই খালা এ সম্পত্তির মালিক। মায়ের ওয়ারিশান হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত এই বাড়িতেই আমি পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। এর মধ্যে আমার খালার ওয়ারিশান হিসেবে তার ছেলে জোয়ার্দার খাঁ তিনটি দাগের ৬৬ শতাংশ সম্পত্তির ৪২ শতাংশ জমি নোয়াখালীর ইছাক নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে। জমি হস্তান্তরের পর বিভিন্নভাবে শুরু হয় আমার উপর অত্যাচার। দীর্ঘ ২২ বছর যাবত আমাকে মামলা-মোকদ্দমায় হয়রানিসহ ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয় ।
জানা গেছে, ইছাক ওই জমিতে দখলে না যেতে পেরে স্থানীয় জব্বারের ছেলে প্রবাসী মিলনের কাছে বিক্রি করে। এরপর মিলনের পক্ষ থেকে কয়েক দফা দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। সম্প্রতি একটি গ্রুপ মিলনের কছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে জরিনাকে উচ্ছেদের ফন্দি আঁটে।
সূত্র জানায়, প্রবাসী মিলন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদ্বয় ও প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে সোমবার (২০ এপ্রিল) জরিনার বসতবাড়িতে ঢুকে ঘর ভাঙচুর ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে উচ্ছেদে চেষ্টা করে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আঠালিয়া মৌজার আর এস ৯২৩,৯২৪ ও ৯২৯ দাগে ৬৬ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিভিন্ন সময় ওই বসতবাড়ি দখল করার চেষ্টা করলেও প্রতিরোধের মুখে সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ভুক্তভোগী জরিনা বেগমকে ৫ শতাংশ জমি কিনে ঘর নির্মাণ করে দেয়ার শর্তে মীমাংসা হয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন দ।
তবে জরিনা বেগম মীমাংসার বিষয়টি স্বীকার করলেও বিচারের রায় কার্যকর নিয়ে শঙ্কাবোধ করছেন তিনি । তার দাবি,তাদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই বাড়ি ছাড়বেন না। এ নিয়ে জানমালের আশঙ্কায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
অভিযুক্ত প্রবাসী মিলন বলেন,জরিনা বেগমের এখানে কোনো স্বত্ব নাই। তিনি অবৈধভাবে বসতবাড়ির দখল নিয়ে আছেন। স্থানীয়দের অনুরোধ ও মানবিক দিক বিবেচনা করে ২৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে উনার থাকার জন্য পাশেই ৫ শতাংশ জায়গা ক্রয় করে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছি।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমি যতটুকু জানি স্থানীয় বিএনপি'র নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে বিষয়টি সেটেল হয়েছে।








