নিয়ামতপুরে প্রশাসনের চোখের সামনেই অবৈধ পুকুর খনন, সরকারি রাস্তা ধ্বংস—মাটি বাণিজ্যে জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
নিয়ামতপুরে প্রশাসনের চোখের সামনেই অবৈধ পুকুর খনন, সরকারি রাস্তা ধ্বংস—মাটি বাণিজ্যে জনদুর্ভোগ চরমে

ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট:

রাজশাহীর তানোর সংলগ্ন সীমান্তবর্তী নিয়ামতপুর উপজেলার পাঁড়ইল ইউনিয়নের বিদিলপুর মৌজায় প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে দিবালোকে অবৈধভাবে পুকুর খনন ও সরকারি পাকা রাস্তা ধ্বংস করে মাটি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুর খনন করে উত্তোলিত মাটি পরিবহনের সময় খড়িবাড়ি-রাজবাড়ি সড়কের ওপর কাঁদা জমে রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পথচারীদের জন্যও রাস্তা ব্যবহার করা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দিনের আলোতেই খোলা ট্রাকে কাদামাটি বহন করা হচ্ছে এবং রাস্তার ওপরই মাটি পড়ে তা কাঁদায় পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও পাহারা বসিয়ে নির্বিঘ্নে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল ও আনোয়ার হোসেন জানান, “প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। রাস্তার এমন অবস্থা হয়েছে যে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব।”

গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ কয়েকজন জানান, বর্ষা মৌসুমে এভাবে পুকুর খনন সম্পূর্ণ অনিয়ম। এতে শুধু রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে না, বরং বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। তারা দ্রুত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী পুকুর মালিক ও ভেকু (এক্সকাভেটর) দালালের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। এদিকে রাস্তার ওপর জমে থাকা কাঁদা পরিষ্কার করতে গিয়ে খোয়া-পাথর উঠে গিয়ে স্থায়ী ক্ষতির সৃষ্টি হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে এক ভেকু দালাল বলেন, “সবাইকে ম্যানেজ করেই মাটি কাটা হচ্ছে। এসব নিয়ে পত্রিকায় খবর প্রকাশ করে কোনো লাভ নাই।” তার এমন বক্তব্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

গ্রামবাসীর দাবি, দ্রুত অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।