সাতক্ষীরার কুলিয়ায় কোরআন অবমাননায় যুবককে গণপিটুনি, পরে আটক ও মামলা

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:০৯ পিএম
সাতক্ষীরার কুলিয়ায় কোরআন অবমাননায় যুবককে গণপিটুনি, পরে আটক ও মামলা

এস এম তাজুল হাসান সাদ, (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের পুষ্পকাটিতে পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে সোহাগ (২৫) নামের এক যুবককে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। পরে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা দায়ের করেছে দেবহাটা থানা পুলিশ।

অভিযুক্ত সোহাগ পুষ্পকাটি গ্রামের মনজুরুল ইসলামের মেজ ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৬ অক্টোবর) জোহরের নামাজের পর, পুষ্পকাটি পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন তার নিজ বাড়িতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ তার ফেসবুকে লেখেন—

> “আল্লাহ বলে কিছু আছে আমি মনে করি না। আমি ইসলাম ধর্মের এক ছেলে, আজ আমি নিজ পায়ে কোরআনকে লাথি মেরে ফেলেছি এবং পায়ের নিচে দিয়েছি। কারণ আমার মতো ছেলের কাছে কোরআন ফালতু। আমি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করতে চাই। ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মই সঠিক।”

এই স্ট্যাটাসটি ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয় আলেম-ওলামা ও গ্রামবাসী সোহাগের বাড়িতে গিয়ে তাকে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইতে অনুরোধ করেন। কিন্তু সোহাগ তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে এবং গালিগালাজ ও হামলার চেষ্টা চালায়।

এরপর বিষয়টি স্থানীয়দের ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হয়ে যায়। দুপুর ২টার পর থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে তার বাড়িতে ভিড় করে এবং তাকে গণপিটুনি দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খবর পেয়ে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে সোহাগকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

এ বিষয়ে ওসি গোলাম কিবরিয়া হাসান বলেন,

> “অভিযুক্ত সোহাগকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।