পঞ্চগড়ে বালাইনাশক প্রয়োগে করলাক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ দাবি কৃষকের
সংগৃহীত
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বালাইনাশক প্রয়োগের পর প্রায় তিন বিঘা জমির করলাক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষক ইসলাম উদ্দিন। তাঁর দাবি, পেট্রোকেম বাংলাদেশ লিমিটেডের ‘এম পেড’ নামের একটি জৈব বালাইনাশক স্প্রে করার পর করলাগাছের ডগা মরে যায়, গাছ বিবর্ণ হয়ে পড়ে এবং ফল ঝরে যেতে শুরু করে। এতে দেড় লাখ টাকার বেশি লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।
ইসলাম উদ্দিন উপজেলার মির্জাপুর তেলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ধারদেনা করে প্রায় তিন বিঘা জমিতে করলার চাষ করেছিলেন তিনি। বাগানে ভালো ফলনও হয়েছিল। এরই মধ্যে দুই দফা করলা বিক্রিও করেন। তবে বালাইনাশক প্রয়োগের পর ক্ষেতের এমন অবস্থা হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই কৃষক।
কৃষক ইসলাম উদ্দিনের অভিযোগ, আটোয়ারী উপজেলা সদরের ফকিরগঞ্জ বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের দোকান থেকে তিনি এম পেড নামের জৈব বালাইনাশকের এক লিটারের বোতল ১ হাজার ১০০ টাকায় কেনেন। গত ১৮ অক্টোবর জমিতে নিয়ম অনুযায়ী ওষুধটি স্প্রে করেন। পরদিন থেকেই গাছগুলো বিবর্ণ হতে শুরু করে। পরে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জমিতে গিয়ে দেখেন, প্রায় তিন বিঘা জমির করলাক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছের ডগা মরে গেছে, ফলও ঝরে পড়ছে।
ইসলাম উদ্দিন বলেন, “এম পেড নামের বালাইনাশক দেওয়ার পরই আমার তিন বিঘা জমির করলাবাগান নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে আর ফলন হবে না। গাছ মরে গেছে। আমার দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলাম। এখন এই লোকসান সামলাব কীভাবে?”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বালাইনাশক কেনার আগে কোম্পানির প্রতিনিধি নিয়মিত যোগাযোগ করলেও ক্ষতির পর থেকে তাঁকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, বিক্রেতাও দায় নিতে চাইছেন না। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
স্থানীয় কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, তাঁদের এলাকায় ইসলাম উদ্দিনের বাগানেই সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছিল। অথচ বালাইনাশক প্রয়োগের পর পুরো বাগান নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষতির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি ভেজাল বালাইনাশক প্রতিরোধে দ্রুত সরকারি পদক্ষেপের দাবি জানান।
আরেক কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ইদানীং বিভিন্ন কীটনাশক কোম্পানির প্রতিনিধিরা এলাকার কৃষকদের নানা ধরনের প্রলোভন ও ভুল তথ্য দিয়ে তাঁদের পণ্য কিনতে উৎসাহিত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব পণ্য ব্যবহারে কৃষকের ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কীটনাশক বিক্রেতা আনিছুর রহমান লেবু বলেন, একই বালাইনাশক আরও অনেক কৃষক কিনেছেন, কিন্তু তাঁদের কারও ক্ষতি হয়নি। তাঁর ধারণা, ইসলাম উদ্দিন হয়তো সঠিক নিয়মে বালাইনাশক স্প্রে করতে পারেননি।
পেট্রোকেম বাংলাদেশ লিমিটেডের আটোয়ারী উপজেলার সহকারী বিপণন কর্মকর্তা (অ্যাসিস্ট্যান্ট মার্কেটিং অফিসার) সবুজ আলী বলেন, ওই কৃষকের জমিতে এমন পরিস্থিতি কেন হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তাঁর ধারণা, কৃষক বালাইনাশকটির সঙ্গে অন্য কোনো ওষুধ মিশিয়ে স্প্রে করে থাকতে পারেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অভিযোগের বিষয়ে বালাইনাশকটির কার্যকারিতা, প্রয়োগপদ্ধতি ও সম্ভাব্য ক্ষতির কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
এমকে/বিএম২৪









