টানা ভারি বর্ষণে কক্সবাজারে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত, পানি নেমে যাওয়ায় ভেসে উঠছে ক্ষত

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
টানা ভারি বর্ষণে কক্সবাজারে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত, পানি নেমে যাওয়ায় ভেসে উঠছে ক্ষত

নুরুল আমিন হেলালী,  কক্সবাজার প্রতিনিধি:

সপ্তাহব্যাপী টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের ঈদগাঁও,চকরিয়া, পেকুয়া,কুতুবদিয়া,উখিয়া,রামু ও মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লক্ষাধিক মানুষ। কক্সবাজারের দুই প্রধান নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীর পানি পাড় ভেঙ্গে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) পর্যন্ত পাহাড় ধস ও নদীর স্রোতে ভেসে গিয়ে প্রায় ২০জনেরমত প্রাণহানি ঘটেছে। অতি বৃষ্টিতে নিজেদের ঘরে রাতে ঘুমাতে গেলেও নিজেদের অনিরাপদ মনে করছেন বানভাসি ও পাহাড়ের পাশে বসবাসকারীরা। গেল চার দিনের এই ঘটনায় শুধু রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গতরোববার থেকে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার বহু বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এছাড়া কোনো কোনো সড়কে পানি উঠে পড়ায় যান ও জন চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে।

স্থানীয়দের মতে, টানা বৃষ্টিপাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঈদগাঁও, চকরিয়া ও পেকুয়া ও উখিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল। 

বিশেষ করে স্থানীয়দের অভিযোগ, চকরিয়া-পেকুয়ার নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ পানি বন্ধী হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।


প্রশাসন ও স্থানীয়দের মতে,, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসাপাহাড়ি ঢলের কারণে জেলায় অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে—ঈদগাঁও উপজেলার মাইজ পাড়া,ঈদগাঁও বাজার এলাকা,সওদাগরপাড়া খামার পাড়া,গজালিয়া,ছাতি পাড়া,টইটং ইউনিয়নের হাজীবাজার ও সোনাইছড়ি, শিলখালী ইউনিয়নের হেদায়াতাবাদ, মাঝেরঘোনা, কাছারীমোড়া ও পেঠান মাতবরপাড়া, রাজাখালীর বামুলাপাড়া, মৌলভীপাড়া, উলুডিয়াপাড়া, মগনামার শরৎঘোনা, পশ্চিম বাজারপাড়া, ধারিয়াখালী, ধরদরীঘোনা, মটকাভাঙা, চেরাংঘোনা, মরিচ্যাদিয়া, রঙ্গিয়াখালী, মগঘোনা, মাঝিরপাড়া ও মৌলভীপাড়া, উজানটিয়ার মিয়াপাড়া, সাবখালীপাড়া, ঘোষলপাড়া, পেকুয়ারচর ও পেরাসিংগাপাড়া, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মোরারপাড়া, সৈকতপাড়া, পূর্ব মেহেরনামা ও পশ্চিম গোয়াঁখালী এবং বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী,উখিয়ার ও কুতুবদিয়া ও রামু গর্জনিয়ার কয়েকটি গ্রাম। এছাড়া পর্যটন শহরে টানা বৃষ্টিতে কয়েকটি আভ্যন্তরীণ সড়ক কোমর সমান পানিতে নিমজ্জিত থাকায় যান ও জন চলাচল ব্যাঘাত ঘটেছে। এছাড়া কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী সাঁকো ধসে পড়ায় পারাপারে চরম বিপাকে পড়েছে স্থানীয়রা। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। কয়েকটি উপজেলায় পাহাড় ধসের হুমকি থাকার উপজেলা প্রশাসন পাহাড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্কতামূলক মাইকিং করা করেছে।

টেকপাড়ার বাসিন্দা প্রবাসী জামাল উদ্দিন বলেন,পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে বৃষ্টি হলেই শহরের সড়কে হাঁটু পানি জমে চরাচলে অযোগ্য হয়ে পড়ে। 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে সদরে কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ও পাহাড় ধসে হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে উপজেলা প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিম্নাঞ্চল ও পাহাড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, চকরিয়ার কাকারা, ফাঁসিয়াখালী, লক্ষেশ্বর, করইয়াঘোনা, বমুবিলছড়ি ও চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড পানিতে তলিয়ে গেছে। এমনকি চকরিয়া সরকারি কলেজেও হাঁটু পরিমাণ পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থা কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক আয়াজ রবি জানান,সপ্তাহব্যাপী টানা বর্ষণে রাস্তা প্লাবিত হওয়ায় উখিয়া-কক্সবাজার সড়কে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছে পথচারী ও যাত্রীরা। এছাড়া গতকাল টেকনাফ থেকে রামু কাটির মাথা সড়কে কোমর সমান পানিতে নিমজ্জিত থাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এছাড়া গতরাতে ঈদগাঁও চৌফলদন্ডী সড়কের মাইজপাড়া নুরুল উলুম মাদ্রাসার সামনে সড়কে বড় গাছ উপড়ে পড়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে ফাযার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের চেষ্টায় দুইঘন্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।