টানা বর্ষণে বাগেরহাটে ৭ হাজারের বেশি মাছের ঘের তলিয়ে বিপর্যয়, শত কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ পিএম
টানা বর্ষণে বাগেরহাটে ৭ হাজারের বেশি মাছের ঘের তলিয়ে বিপর্যয়, শত কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট  প্রতিনিধি:

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে বাগেরহাটের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে জেলার অন্তত সাত হাজারের বেশি মাছের ঘের পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। এতে হাজারো মৎস্যচাষি শত কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফকিরহাট, চিতলমারী, মোল্লাহাট, মোংলা, রামপাল ও মোরেলগঞ্জ উপজেলা। টানা বৃষ্টিতে খাল, নদী ও জলাশয়ের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিকাংশ ঘেরের পাড় ভেঙে যায়। ফলে চিংড়ি, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উন্মুক্ত জলাশয়ে চলে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিরা জানান, ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তারা মাছ চাষ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক এই দুর্যোগে তাদের বিনিয়োগের বড় অংশই পানিতে ভেসে গেছে। অনেকেই এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

ফকিরহাট উপজেলার মৎস্যচাষি কাজী মিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঘেরে হাঁটু সমান পানি উঠে যায়। নেট ও কচুরিপানা দিয়ে মাছ আটকে রাখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ মাছই ভেসে গেছে।”

মোল্লাহাটের এক চাষি জানান, তার দুটি বড় ঘেরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি ঘের তলিয়ে যাওয়ায় কোটি টাকার মাছ হারিয়েছেন। একই ধরনের ক্ষতির খবর এসেছে চিতলমারী, রামপাল ও মোংলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও।

এদিকে ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় মানুষ খেওলা জাল নিয়ে মাছ ধরতে নামেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর স্থানীয় নেতারা সরকারের কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তা, ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ, এনজিওর কিস্তি আদায় স্থগিত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ক্ষতি কমাতে ঘেরের পাড় উঁচু ও মজবুত করা এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত পুনর্বাসন, সহজ শর্তে ঋণ এবং টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে আগামী মৌসুমে জেলার মৎস্য উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি বাগেরহাটের মৎস্যনির্ভর অর্থনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।