ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বুটেক্স হল প্রশাসনের উদ্যোগে স্বস্তিতে আবাসিক শিক্ষার্থীরা
বিডি মেইল
নিয়ামুল ইসলাম তামিম, বুটেক্স প্রতিনিধি
বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে প্রতিবছরই দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। জমে থাকা পানি, অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ও এডিস মশার বিস্তারের কারণে এ সময়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে। চলতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ছেলেদের তিনটি আবাসিক হলের মধ্যে জি.এম.এ.জি. ওসমানী হলে তিনজন এবং নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলে একজন শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
তবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বুটেক্সের আবাসিক হলগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের আবাসিক হলগুলোর মধ্যে শহীদ আজিজ হলে তিনজন এবং জি.এম.এ.জি. ওসমানী হলে আটজন শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলে আক্রান্তের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া যায়নি। এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের একমাত্র আবাসিক হল বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলে গত বছর ছয়জন শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
হলভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও জি.এম.এ.জি. ওসমানী হলে গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কম। একই চিত্র শহীদ আজিজ হলেও। গত বছর এ হলে তিনজন শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও চলতি বছর এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলে গত বছর ছয়জন আক্রান্ত হলেও এ বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন একজন।
আক্রান্তের সংখ্যা কম থাকার পেছনে হল প্রশাসনের নিয়মিত ফগিং ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি হলের আশপাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
হলের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের কেউই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার জন্য হলের পরিবেশ বা হল প্রশাসনকে দায়ী করছেন না। বরং বাইরে যাতায়াত ও ব্যক্তিগত অসচেতনতাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জি.এম.এ.জি. ওসমানী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইফতেখার ইসলাম বলেন, “গত সপ্তাহে জ্বর আসার দুই দিন পর আমার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তবে বর্তমানে আমি সুস্থ আছি। আমাদের হলের পরিবেশ ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। হলে নিয়মিত ফগিং করা হচ্ছে। তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার কারণ হিসেবে আমি হলের পরিবেশকে দায়ী করছি না। তবে প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যাতায়াতের কারণে এ সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছি।”
চারটি আবাসিক হলের প্রভোস্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আবাসিক হলগুলোতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
জি.এম.এ.জি. ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে হলে নিয়মিত ফগিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আশপাশের আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। ফলে পানি জমে থাকার সুযোগ নেই।”
তিনি আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মশারি ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন।
হল প্রশাসন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ফগিং ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়ানো গেলে আবাসিক হলগুলোতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









